বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটা অসম্ভব গল্প।

জ্ঞান ফিরে এলো, তখন দেখলুম যে আমি তেমনি বেঞ্চির উপরে বসে’ আছি, আর পূব আকাশে অন্ধকারের বুক চিরে আলো ফুটেছে। ভোরের হাওয়া বইতে শুরু করল, তার স্পর্শে আমার মাতাল মন কতকটা তাজা হ’য়ে উঠল। পূর্ববাকাশ ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠল দিনের স্পষ্টতার মধ্যে রাত্রির ঘটনাটাকে একটা অতিদূর দুঃস্বপ্নের মতো প্রতীয়মান হ’তে লাগল, যেন সেটা আরব্য-উপন্যাসের একটা ছেঁড়া পাতা কোন ক্রমে উড়ে এসে আমার শয়নকক্ষে প্রবেশ করেছিল।

 কিন্তু আরব্য-উপন্যাসের ছেঁড়া পাতাই হোক্ আর দুঃস্বপ্নই হোক, সে-রাত্রির কোন ঘটনা যে আমার মনের উপরে কোনই ছাপ রেখে গেল না তা নয়। আমি সেদিন স্পষ্ট বুঝলুম মে, মানুষের প্রতিমুহূর্ত্তে যা তার স্পষ্ট, সেইটেই তার মিথ্যা। মানুষের মগ্ন-চৈতন্যের যে সত্য সে সত্য তার প্রবুদ্ধ চৈতন্যের সহস্র চাঞ্চল্যের কাছে প্রতিনিমিষেই হার মানছে। কিন্তু যখন একটা কিছু ইঙ্গিতে একটা কিছু ইসারায় একটা কিছুকে নিমিত্ত করে’ সেই মগ্ন-চৈতন্যের সত্য বাইরের মনে বেরিয়ে আসে তখন প্রবুদ্ধ চৈতন্যের হাজার চাঞ্চল্য পালাবার পথ পায় না। আমার সেদিন মনের পাতায় যে-একটা গভীর দাগ পড়েছিল এদাগ আগে থাকলে মা আমার কিছুতেই দ্বিতীয়বার বিয়ে দিতে পারতেন না—এটা ঠিক অনুভব করলুম।

 তার পরদিন রাত্রে যখন চঞ্চলাকে সঙ্গে নিয়ে স্বর্ণ এসে আমার ঘরের সামনে দাঁড়াল তখন দেখলুম স্বর্ণর মুখ চোখ থেকে সে দুষ্টোমির হাসি কোথায় চলে গেছে, তার ঠোঁটদুটো কি যেন একটা

৩৭