একটা জীবনের প্রাণপণে দাবিয়ে রাখা ক্রন্দন—যে জীবনের সুখের একই মাত্র আশালতা, যে আশালতা ছিঁড়লে জীবনে আর কিছু ধরবার থাকে না। আমি অনুভব করলুম জল্লাদের সঙ্গে আমার কোনই প্রভেদ নেই। আমার ত কোন কৈফিয়ত নেই। আমি চঞ্চলাকে পাশে বসিয়ে আদর করতে লাগলুম। চঞ্চলার চোখ দু’টো ছল ছল করে উঠল।
চঞ্চলার যে—হাতখানি নিয়ে আমি আদর করছিলুম সেই হাতখানার প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ল— আমি চম্কে উঠলুম। রেবামিনির হাতের প্রত্যেক রেখাটি আমার চেনা। দেখলুম এ হাত ঠিক রেবার হাত। হাতের গড়ন, আঙুলের গড়ন, নখ সব অবিকল রেবামিনির হাতের মতো। চঞ্চলার বাঁ—হাতখানি নিয়ে তা উল্টিয়ে দেখলুম তার পিঠে অনামিকা আঙুলের উপরে তিলটি পর্য্যন্ত স্বস্থানভ্রষ্ট নয়। আমি বিস্ময়-বিস্ফারিত চোখে হাত দু’খানির দিকে চেয়ে রইলুম। চঞ্চলা অতি মৃদু কণ্ঠে সঙ্কোচের সঙ্গে বল্লে—“কি দেখছ?” চঞ্চলাকে আমি উত্তরে ফাঁকি দিলুম। আমি বললুম—“আমার স্বভাব এমনি যে, আমার মানুষের হাতের সঙ্গেই ভালবাসা আগে হয়। তোমার হাত দুখানি অতি সুন্দর।” চঞ্চলার চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল, তার ঠোঁট দু’খানিতে একটু মৃদু হাসির রেখা অঙ্কিত হ’তে চেয়ে চেয়ে মিলিয়ে গেল; কারণ তার প্রাণ থেকে শঙ্কা বুঝি তখনও একেবারে অন্তর্হিত হয় নি। কিন্তু সে দিন সে রাত্রে আমার অন্তরে সব চাইতে যেটা গভীর দাগ কেটেছিল সেটা হচ্ছে আমার পানে চঞ্চলার প্রথম দৃষ্টিটি। আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলুম
৪০