আমার অন্তরে যাই হোক্ না কেন চঞ্চলার যেন দুঃখের কারণ আমি না হই। চঞ্চলাকে সুখী করবার জন্যে আমি প্রাণপণে চেষ্টা করব।
স্বর্ণ তার শ্বশুর বাড়ী চলে’ গেল, আমরা স্বামী—স্ত্রীতে যেমন সবাই দিন কাটায় তেমনি দিন কাটাতে লাগলুম! কিন্তু যতই দিন যেতে লাগল ততই আমার মনে একটা ভাব স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হ’য়ে উঠতে লাগল। সে ভাবকে আমি যতই ছাড়াতে চাই সে ভাব আমাকে ততই জড়িয়ে ধরতে লাগ্ল। আমার সুখ সোয়াস্তি কোথায় উড়ে গেল। আমার ভিতর ও বাহির একটা বিরাট মিথ্যা সম্বন্ধের উপরে প্রতিষ্ঠিত হ’ল। এ মিথ্যা আমার চাইতে শক্তিমান। এ মিথ্যার হাত থেকে হায় আমার উদ্ধারের আর বুঝি উপায় নেই।
পলে পলে তিলে তিলে আমার মনে প্রাণে যেন আমার প্রত্যেক স্নায়ুতে স্নায়ুতে অতীতের একটি রহস্যময় অতি সূক্ষ্ম প্রভাব বিছিয়ে পড়তে লাগল যে—প্রভাবের সামনে চঞ্চলার অস্তিত্ব, চঞ্চলার স্বাতন্ত্র্য, আমার কাছে প্রতিদিনে অস্পষ্ট থেকে অস্পষ্টতর হয়ে উঠতে লাগল। ঐ প্রভাবের মধ্যে আমার সুখ ছিল, বেদনা ছিল, আমার বিদ্রোহ ছিল আবার আনন্দও ছিল। অতীতের অস্পষ্টতার কাছেই বর্ত্তমানের স্পষ্টতা প্রতি নিমিষে হার মানতে লাগল।
আমি আদর করতুম—কাকে? চঞ্চলাকে? না—সে—আদর যেন কোন্ অদৃশ্য লোকের কোন অদৃশ্য-শরীরী জীব এসে দাবী করে’ কুড়িয়ে নিয়ে যেত, সে আদর চঞ্চলার শরীরের উপরেই থেকে যেত তার অন্তরে ত পৌঁছিত না, সে আদর করবার সময় ত আমার
৪১