চঞ্চলাকে মোটেই মনে পড়ত না——মনে পড়ত রেবামিনিকে, তার প্রতিদিনের কথাগুলিকে, তার বিশেষ বিশেষ দিনের অভিমানগুলিকে; তার সোহাগ আদর হাস্য পরিহাস, এই সব একত্র হ’য়ে দল বেঁধে এসে আমার মনের উপরে পড়ে’ সেখান থেকে অতি স্পষ্ট অতি বর্ত্তমান চঞ্চলাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখত—ঠিক আমি যখন চঞ্চলাকে নিয়ে আদর করতে বসতুম। হায়! এর বিরুদ্ধে আমি কেমন করে’ লড়াই করব।
কিন্তু আর যাকেই হোক্ না কেন বাইরের মিথ্যা আচরণ দিয়ে আপনার জনকে চিরকাল ফাঁকি দেওয়া যায় না। যে দুটি মানুষ চব্বিশ ঘণ্টা এক বাড়ীতে রয়েছে, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কুড়ি ঘণ্টাই হয়ত যাদের বাক্য দৃষ্টি স্পর্শ পরস্পরের মধ্যে বিনিময় হচ্ছে, বিশেষত যে দুজনের অন্তত একজনও আর একজনের অতি আপনার অতি অন্তরতম হবার জন্যে ব্যগ্র—এমন যে দুটি মানুষ—এদের পরস্পরের মনের সঙ্গে এমনি একটা সম্বন্ধ স্থাপিত হ’য়ে যায় যাতে করে’ সে দুটো মন বাইরের মিথ্যা আচরণে কিছুতেই প্রতারিত হয় না। বাইরের সকল অনুষ্ঠানকে কাটিয়ে এদের এক জনের মনের ভাব আর এক জনের মনে প্রতিফলিত হয়ে যায়।
তাই চঞ্চলা এটা স্পষ্ট করে’ না জানলেও এ অনুভবটা বোধ করতে তার বিশেষ বিলম্ব হ’ল না যে, আমার অন্তরাত্মা তার অন্তরাত্মাকে মোটেই বরণ করে’ নিতে পারে নি, একান্ত সামীপ্য সত্ত্বেও আমাদের দু’জনের মধ্যে এমন একটা বাধা এমন একটা ব্যবধান আছে যা কি করলে ভাঙ্গে কি করলে ঘোচে তা তারও জানা
৪২