কিছুমাত্র দেরী করল না। চঞ্চলা আর আমার কাছে অবগুণ্ঠন উন্মোচন করতে চাইত না। আমিও তা কোনদিন খুলতে বলতুম না বা খুলতুম না। কোন অধিকারে?—এমনি করে’ দিনের পর রাত, রাতের পর দিন কেটে যেতে লাগল,—সদা-অবগুণ্ঠনবতী চঞ্চলাকে দেখে আমার বুকের মধ্যে মাঝে মাঝে একটা বিদ্যুতের ঝলক উঠত—এ চঞ্চলা? না রেবামিনি?—
আপনাদের মনে কোনদিন বিদ্রোহের ভাব জেগেছে? বিদ্রোহ সংসারের উপরে সৃষ্টির উপরে ভগবানের উপরে। যেন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কিছুই ঠিক চলছে না—এর আগা থেকে গোড়া পর্য্যন্ত সব উল্টো, এর সুরু থেকে শেষ পর্য্যন্ত কেবল একটা বিশৃঙ্খলার জটলা। এখানে কারো বুদ্ধি নেই, বিবেচনা নেই, হৃদয় নেই, দয়া নেই, করুণা নেই, কিছুই নেই—আছে কেবল নিষ্ঠুর মরুভূমির ধূ—ধূ—ধূসর তপ্ত বালির চোখজ্বালা—করা শুভ্রতা। কিন্তু কেন? কারণ ঐ যে প্রশ্ন—এ চঞ্চলা, না রেবামিনি? এর উত্তর একটা বিরাট মিথ্যা।
আমার প্রতিদিনের নিষ্ঠুর অত্যাচার তার অন্তরাত্মার বিরাট অপমান সম্বল করে’ চঞ্চলা শুকিয়ে উঠতে লাগল। এ থেকে বুঝি তার মুক্তি নেই, সে মন্ত্রমুগ্ধ বিহঙ্গিনীর মতো ধীরে ধীরে বুঝি মরণের দিকে অগ্রসর হ’য়ে চলল, আর সেই সঙ্গে মিনির জন্যে আমার রাক্ষসী আকাঙ্ক্ষা প্রবল হ’য়ে উঠতে লাগল। এই রাক্ষসী আকাঙ্ক্ষার কতকটা তৃপ্তির জন্য আমার ছিল দরকার চঞ্চলাকে। ক্রমে ক্রমে আমার মনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব সব ঘুচে গেল, চঞ্চলা যে একটি জীব, তার যে একটা পৃথক জীবন আছে, যে জীবনে সুখ
৪৪