দুঃখ বোধ আছে, আশা আকাঙ্ক্ষা আছে, তা আমি ভুলে গেলুম। চঞ্চলার দিনগুলো একটা অন্তহীন দুঃখের ভিতর দিয়ে ব’য়ে যেতে লাগল। হায়! এর থেকে তার মুক্তি কিসে হবে? কবে হবে?
এমনি করেই দিন কাটতে লাগল। একদিন রাত্রে মিনিকে ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়লুম। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিলুম যে, মিনি আমার বিছানার পাশে এসে হেসে কুটি কুটি হ’য়ে আমায় বলছে—“এই দেখ আমি আবার এসেছি, তুমি কি ঘুমিয়েই থাকবে?” আমার ঘুম তখনই ভেঙ্গে গেল। দেখলুম কেবল অন্ধকার, আর আমার পাশে একটা অতি মৃদু কান্নার শব্দ। চঞ্চলা কাঁদছিল।
হায়! আমি চঞ্চলাকে কি বলে’ সান্ত্বনা দেব। সে যে হবে ঘোর মিথ্যা! আমার মুখের কথা কি তার প্রাণে লাগবে? আমার অন্তরাত্মায় যার চিহ্নমাত্র নেই, তারি ফাঁকা মুখের কথায় কি তার অন্তরাত্মায় শান্তি ঢেলে দেবে? আমি জানতুম তা দেবে না। তাই আমি কিছুই বলতে পারলুম না। কি জানি কত রাত চঞ্চলা এই রকম কেঁদে কাটিয়েছে!
এমন সময় মা আমার কবাটে আঘাত করে’ ডাকলেন। আমি জেগেই ছিলুম। উত্তর দিলে মা বললেন——“দেখত কার মোটর এসে আমাদের বাড়ীর গেটের কাছে লাগল।”
মোটরের শব্দটা আমারও কানে এসে লেগেছিল কিন্তু আমি সেদিকে তত মনোযোগ দিইনি। যখন মা বললেন যে, সেটা
৪৫