আমাদেরই বাড়ীর গেটের কাছে এসে লেগেছে তখন আমি তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে বেরিয়ে পড়লুম।
বাইরে গিয়ে দেখলুম আমার শ্বশুর বাড়ীর—চঞ্চলার বাপের বাড়ীর—মোটর, সোফরের হাতে এক চিঠি। চিঠি পড়ে’ জানলুম যে চঞ্চলার বাবা অত্যন্ত পীড়িত, এখন যায় যায় অবস্থা, ডাক্তারের মতে আজ রাত কাটে কি না সন্দেহ, চঞ্চলাকে দেখবার জন্যে তিনি ব্যাকুল, কেবলই চঞ্চলাকে ডাকছেন, চঞ্চলাকে ফিরতী মোটরে পাঠাবার ব্যবস্থা করবার জরুরি অনুরোধ।
আমি তাড়াতাড়ি মা’কে সমস্ত ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিয়ে, চঞ্চলার গায়ে একটা শাল জড়িয়ে দিয়ে দু’জনে গিয়ে মোটরে চড়লুম। মোটর ঝড়ের বেগে ছুটে চলল।
ভোর হয় হয়—হ্যারিসন রোডের গ্যাসের বাতিগুলো কেবল নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের মোটর আমহার্ষ্ট ষ্ট্রীটে চঞ্চলার বাপের বাড়ীর সামনে গিয়ে লাগল। মোটর থামার সঙ্গে সঙ্গে আমার শ্যালক অমূল্য এসে চঞ্চলাকে নিয়ে গেল, আমি বৈঠকখানায় অপেক্ষা করতে লাগলুম।
পাঁচ মিনিটও হয় নি, তখন উপরে বাড়ীর ভিতরে একটা চাঞ্চল্যের আভাস পেলুম। সঙ্গে সঙ্গে অমূল্যর উত্তেজিত কণ্ঠ আমাকে ডাকলে “বিভূতি বাবু, বিভূতি বাবু, একবার উপরে আসুন।” আমি তাড়াতাড়ি উপরে উঠে গেলুম।
যে ঘরে রোগী ছিল সেই ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলুম, দেখলুম চঞ্চলা অবগুণ্ঠন—হীনা রোগীর শয্যার পাশে নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে।
৪৬