রোগী বিছানার উপরে উঠে বসেছে। তার শীর্ণ মুখমণ্ডলে কোটরগত চোখ—দুটো কেবল যেন কোন অদৃশ্যলোকের তীব্র ও তীক্ষ্ণ আলোকের সম্পাতে জ্বল্ জ্বল্ করছে। আমি ঢুকতেই রোগী হতাশ কণ্ঠে বললেন, “এ কাকে নিয়ে এলে বাবা, এ ত আমার চঞ্চলা নয়।”
আমি আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে দেখলুম—ওঃ কি দেখলুম!”
মুহূর্ত্তে—বোধ হয় এক সেকেণ্ডের সহস্রাংশের এক অংশ সময়ের জন্যে আমার ধমনীতে ধমনীতে সমস্ত রক্ত— চলাচল বন্ধ হ’য়ে গেল, তার পর—মুহূর্ত্তে সেই রক্ত—প্রবাহ আবার আমার সর্ব্বাঙ্গে ছেয়ে গিয়ে আমাকে উন্মাদের মতো করে’ তুলল, ক্ষুধার্ত্ত শার্দ্দূলের মতো আমি চক্ষের পলকে গিয়ে আমার স্ত্রীকে আমার বুকের উপরে চেপে ধরলুম। কি একটা বিজয় গর্ব্বে আমার সমস্ত অন্তর উথলে—ওঠা সাগর—বারির মতো স্ফীত হয়ে উঠল, আমি রোগীর দিকে চেয়ে এক হাত তুলে যেন আমার সম্মুখীন মৃত্যুর অসীম শক্তিকে লক্ষ্য করে’ চ্যালেঞ্জের স্বরে চেঁচিয়ে বলে’ উঠলুম—“না এ আপনার মেয়ে চঞ্চলা নয়—এ আমার স্ত্রী রেবামিনি”।
মরণাহত রোগী বিছানার উপরে ঢলে’ পড়ল। আমি সে দিন আমার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে প্রথম চুম্বন করলুম।
৪৭