এমনি করে কিছু দিন কেটে গেল! একদিন তাকে আর অমনি ফিরে অস্তে হ’ল না। সে ঝরণার ধারে গিয়ে দেখলে যে অপর পারে একটা পাথরের উপরে চুপ করে’ বসে রয়েছে এক সুন্দরী তরুণী, যেন পাষাণ ফেটে পদ্মফুল ফুটেছে!
মুহূর্ত্তে পাহাড়িকে কে যেন বলে’ দিয়ে গেল যে এ সেই—যার অপেক্ষার সে প্রতিদিন ঘুরে বেড়াত। মুহূর্ত্তে পাহাড়ির অন্তরটা সার্থকতায় ভরে’ উঠ্ল—তার চোখে পলক পড়্ল না— অনিমেষ নয়নে সে দেখতে লাগল সেই সুন্দরী আপরিচিতা তরুণীকে।
অচেনা? আচেনা ত বটেই; কিন্তু তার মত চেনা ত আর কেউ নেই—আর কিছু নেই। বর্যে বর্যে দিনে দিনে পলে পলে তারই অন্তরের সঙ্গে সঙ্গে যে সে গড়ে’ উঠেছে—তারই আনন্দের ভিতর দিয়েই যে তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয়। এ পরিচয় ত এক দিনের নয়—এক কালের নয়—এ পরিচয় যে বহু দিনের, বহু কালের—কত জন্মের। অচেনাই বটে—কিন্তু অতি অন্তরতম।
পাহাড়ি জিজ্ঞেস করল—“ওগো তরুণি, তোমার নামটি কি? তুমি আসছ কোথা থেকে?”
তরুণী উত্তর দিলে—“নাম আমার তরুণী—আস্ছি আমি বহুদিন হ’তে—বহুদূর থেকে।”
“বহুদিন হ’তে?—তবে ত তুমিই সেই—যার অপেক্ষায় আমি এতদিন কাটিয়েছি। বহুদূর থেকে!—তাই বুঝি আমি দিগন্তের কোলে কোলে তোমারই পায়ের নূপুরের গুঞ্জন শুন্তে পেতুম—ঐ দূর বনান্তরাল থেকে যে বাতাস বয়ে’ আস্ত তাতে তোমারই কুন্তলের
৪৯