বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটা সত্য গল্প।

সুরভী—ঘ্রাণ পেতুম—ঐ উদ্ধে বহুদূরে সুনীল গগনে তোমারই নীল নয়নের অসীম দৃষ্টির গভীরতা আমার চোখে ধরা পড়্ত। তবে ত তুমিই সেই—তবে ত তুমি আমার—ই। ওগো তরুণি, আমাদের মিলন হবে কেমন করে? ওপার ছেড়ে এ পারে আস্‌বে না কি?”

 “তোমার নামটী কি?”

 “নাম আমার কল্পশেখর।”

 “কল্পশেখর, তোমার সাধ্য কি আমায় ধরে’ রাখবে তোমার ঐ ছোট্ট কুটীরে—তোমার ঐ ছোট্ট কুটীরে ত আমার জায়গা হবে না। আর এই খরস্রোতা নির্ঝরিণীকেই বা আমি পেরিয়ে যাব কেমন করে—এ স্রোত যে মত্ত—মাতঙ্গকেও ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তার চাইতে কল্পশেখর, তুমিই এধারে এস। ওধারে ঐ কুটার তোমার গণ্ডী। কিন্তু এধারে ত কোন গণ্ডী নেই—এধারে দিগন্তের আলো, দিগন্তের বাতাস। সার দিয়ে ঐ যে পাহাড়ের পর পাহাড় অনন্ত যুগ ধরে’ মৌন হ’য়ে দাঁড়িয়ে আছে—সেই অনন্ত যুগের স্বপ্ন এধারে। ঐ অনন্ত যুগের স্বপ্ন নিয়ে অনন্ত যুগের সাক্ষী হ’য়ে যে পাহাড়গুলো দাঁড়িয়ে আছে তার আশে পাশে ভিতরে বাহিরে উপরে নীচে কত পথ কত অপথ—কত উপত্যকা আধিত্যকা—কত অসমাপ্তি। এই পথ অ—পথ ধরে’ উপত্যকা অধিতাকার ভিতর দিয়ে এই অসমাপ্তির দিকেই আমরা যাত্রা করব্, কল্পশেখর—তুমিই ওধার ত্যাগ করে এধারে এস না।”

 “তবে তাই আস্‌ব তরুণী।”

 কল্পশেখর জলে নামল। তৎক্ষণাৎ অনুভব করলে যে তাকে

৫০