বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা
একটা সত্য গল্প

নিঝরিণীর খরস্রোত কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলবে। কল্পশেখর তাড়াতাড়ি জল ছেড়ে উঠে নির্ঝরিণীর তটে দাঁড়ালে। সাধ্য কি মানুষের এই খরস্রোতা অগভীর নির্ঝরিণী পায়ে হেঁটে পার হয়।

 কল্পশেখর বল্‌লে —“শোনো তরুণী, মানুষের সাধ্য নেই এই খরস্রোতা নির্ঝরিণী হেঁটে পার হয়। শোনো, আমরা দুজনে এই ঝরণা ধরে’ উজানের দিকে চলে যাই। যেখানে এর পরিসব স্বল্প হবে সেখানে এটাকে আমি ডিঙ্গিয়ে যাব।” তরুণী বল্‌লে——“আচ্ছা চল।”

 দু’জনে দু’পার দিয়ে ঝরণার উজানে যাত্রা করল।

 দু’জনে ধীরে ধীরে চল্তে‌ লাগ্‌ল। ধীরে ধীরে সোনালি সূর্য্য পূব গগনে উঠে মাঝ গগনে গিয়ে পড়ল—আবার সেখান থেকে ক্লান্ত দেহে রাঙ্গা মুখে পশ্চিমে ঢলে’ পড়ল, কিন্ত,ঝরণা তেমনি হুহু শব্দে ছুটে চলেছে, কোনখানেই তার পরিসর এমন সঙ্কীর্ণ হয় নি যে, কল্পশেখর তা ডিঙ্গেয়ে যেতে পারে। সন্ধ্যা যখন তার কাজল আঁখি নিয়ে, তার কালো আঁচল আকাশে উড়িয়ে প্রকৃতিকে নিস্তব্ধ হ’তে ইঙ্গিত কর্‌ল তখন তরুণী ব্যাথিত কণ্ঠে ডক্‌ল—“কল্পশেখর।”

 “কি?”

 “আর ত আমি হাঁট্তে‌ পারিনা, কল্পশেখর।”

 কল্পশেখর বল্‌লে—“তবে আজকার মত আমাদের যাত্রা শেষ। শোনো তরুণী, এইখানে আমরা দু’জনে রাত কাটাব। তারপর প্রভাত হ’লে আবার চল্‌ব।”

৫১