তারা সেইখানে নির্ঝরিণীর দু’ধারে দুজনে শ্রান্ত দেহে বসে পড়ল, দু’জন দু’জনের দিকে চেয়ে রইল। চারিদিকের স্তব্ধতার বুক চিরে হুহু শব্দে উদ্দাম উচ্ছল ঝরণা তাদের দুজনার মাঝ দিয়ে একটা অনন্ত বাধার মতো অক্লান্ত বেগে ছুটে চল্ল।
ধীরে ধীরে চারিদিকে আঁধার নিবিড় হয়ে এল, সুন্দরীর নীলাঞ্চলে চুম্কির মতো, নীলাকাশে লক্ষ তারা জ্বল্ জ্বল্ করে’ উঠল। কৌতূহলী হয়ে বুঝি তারা মুখর ঝরণার দু’পাশে এই দুটী মৌন প্রাণীকে দেখ্তে লাগল। কি চায় এরা? কোন মরীচিকার পিছনে ছুটে চলেছে এরা? পরিণাম কি হবে এদের? তাই বুঝি তারা পরস্পরের মাঝে বলাবলি করতে লাগ্ল।
তার পরদিন প্রভাত হলে তারা আবার চল্তে লাগ্ল— কিন্তু যেমন ঝরণা তেমনি, কোথাও একটু সংকীর্ণ হয় নি, কোথাও তার গতিবেগ একটু মন্দ হয় নি—এ যেন অনন্ত কালের পথে অনাদি কাল থেকে ছুটে চলেছে। তারা জ্বল্ জ্বল্ করে উঠল। আবার সন্ধ্যা হল আবার নীলাকাশে লক্ষ আবার তারা বিশ্রাম করতে বল।
পরদিন প্রভাতে আবার তারা চলতে লাগল, তার পরদিন—তার পর দিন, এমনি করে তারা চল্তেই লাগ্ল। যতই তাদের আশা ব্যর্থ হচ্ছিল—ততই তাদের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে উঠ্ছিল যতই তাদের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হচ্ছিল ততই তাদের উৎসাহ উদ্যম অদম্য হয়ে উঠ্ছিল। এমনি করে কত দিনের পর রাত, রাতের পর দিন কত উপত্যকা অধিত্যকা অতিক্রম করে, কত পর্ব্বচূড়া প্রদক্ষিণ করে তারা সেই পার্ব্বত ঝরণার উজানে চল্ল।
৫২