প্রাচীরের মত এক খাড়া পাহাড় আপনার মাথা তুলে রয়েছে—একেবারে খাড়া—দক্ষিণে বামে যতদূর দৃষ্টি চলে, ততদূর এই খাড়া পাহাড়। উপরে তাকিয়ে তার উচ্চতার শেষ দেখা যায় না। যেন বিশ্বকর্ম্মা পৃথিবীর সকল কৌতূহলের, সকল আশা-আকাঙ্ক্ষার বাধা স্বরূপ যোজন—দীর্ঘ যোজন—উচ্চ এক খাড়া প্রাচীর তৈরী করে এখানে বসিয়ে দিয়েছেন। পৃথিবীর মানুষের এখানেই গতির শেষ—আর অগ্রসর হবার উপায় নেই। আর সেই পাহাড়ের মাথার উপর থেকে একটি প্রকাণ্ড জল—প্রপাত বিরাট গর্জ্জন করে এসে পড়্ছে। এই প্রপাতই সেই ঝরণা হ’য়ে বয়ে গিয়েছে যার তীরে তীরে তারা এই পাঁচ বৎসর হেঁটে এসেছে। এই প্রপাতের শব্দই পাহাড়ে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে চতুর্গুণ শব্দে তাদের কানে এসে বাজ্ছিল। তারা সেই প্রপাত ও নির্ঝরিণীর সঙ্গম স্থলে নির্ঝরিণীর দু’পারে কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কল্পশেখর ভাব্তে লাগ্ল।
এতদিন অন্তত তাদের মিলনের চেষ্টা করবার উপায় ছিল, আজ তারও শেষ। হয় মিলন, নয় মিলনের চেষ্ট। চেষ্টাও যখন অসম্ভব তখন জীবনে কাজ কি? কিন্তু এত সহজেই নিরস্ত হব? প্রথম বাধাতেই আ-জীবনের সাধনা পরাজয় মানবে? অসম্ভব! কল্পশেখরের অন্তর দেবতা ত তা মানতে চায় না। এই দুরারোহ পাহাড়ে ওঠ্বার কি কোন উপায় নেই—কোন পথই নেই? এই জলপ্রপাতেই নির্ঝরিণীর উৎপত্তি। সুতরাং সেখানেই এর শেষ। এই পাহাড়ের ওপরেই তাদের যাত্রা
৫৪