বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী সত্য গল্প।

শেষ হবে—তাদের মিলন হবে। কল্পশেখর তার বামে দক্ষিণে তাকিয়ে দেখ্ল। যতদূর দৃষ্টি চলে খাড়া পাহাড় পূর্ব্বে পশ্চিমে আপনাকে বিস্তার করে’ নিষ্ঠুরতার প্রতিমূর্ত্তি স্বরূপ দাঁড়িয়ে আছে। যেন বল্‌ছে—মানুষ, তোমার আশা আকাঙ্ক্ষা কল্পনা জল্পনা উদ্যম উৎসাহের এইখানে শেষ—যাও ধরিত্রীর সন্তান আপনার মাতৃক্রোড়ে ফিরে যাও।

 এমন সময়ে সেখানে এক অপূর্ব্ব সুন্দর পুরুষের আবির্ভাব হ’ল। বিস্ময়-বিস্ফারিত নেত্রে সে একবার কল্পশেখরকে আরবার তরুণীকে দেখ্তে লাগ্‌ল—যেন তাদের সেখানে উপস্থিতির অর্থ সে কিছুই খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে সে কল্পাশেখরকে সম্বোধন করে’ বললে—“তুমি কে?”

 “আমি মানব।”

 তরুণীর দিকে ফিরে জিজ্ঞেস কর্‌ল—তুমি কে?”

 “আমি মানবী।”

 “কোথা থেকে আসছ তোমরা?”

 কল্পশেখর বল্‌লে—“আমরা আস্‌ছি সেই দেশ থেকে, যেখানে ফুল ফোটে আবার ঝরে’ যায়—মানুষ জন্মে আবার মরে’ যায়—যেখানে গড়ে আবার ভাঙে—ভাঙে আবার গড়ে—যেখানে আশার অন্ত নেই, আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই, সাহসের সীমা নেই।”

 “তোমরা মর্ত্তের জীব”

 “আমরা মর্ত্তের জীব।”

 “কি চাও তোমরা?”

৫৫