দেখ্বে। দু’ধার থেকে দু’রাস্তা বরাবর চলে’ পাহাড়ের উপরের একটা হ্রদের তীরে প্রকাণ্ড একটা শাল্মলী তরুর মূলে এসে মিলেছে। সেই হ্রদ থেকেই এই ঝরণার উৎপত্তি। ওই রাস্তায় যদি তোমরা পথ হারিয়ে না ফেল তবে সেই হ্রদের তীরে তোমাদের মিলন হ’তে পারে।”
কল্পশেখর জিজ্ঞেস কর্ল—“এ যাত্রা শেষ হবে কত দিনে?”
গন্ধর্ব্ব উত্তর দিল—“কত দিনে তা কে জানে—কে বল্বে সে কথা?”
গন্ধর্ব্ব অন্তর্ধান হল।
কল্পশেখর তরুণীর দিকে ফিরে বল্ল— “তরুণী সাহস আছে?” তরুণী উত্তর দিলে—“আছে।”
“লক্ষ্য—ভ্রষ্ট হবে না?”
“না।”
দু’জনে দু’দিকে যাত্রা করল। কত দিনের জন্য কে বলবে?
* * * * *
সে দিন সূর্য্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কল্পশেখর বাতাসের গায় তাজা পদ্ম ও ভিজে শেওলার গন্ধ পেলে। কল্পশেখর বুঝ্ল যে গন্ধর্ব্ব যে হ্রদের কথা বলেছিল সে হ্রদ আর বেশি দূরে নয়—তার যাত্রা শেষ হবার আর বেশি বিলম্ব নেই। কল্পশেখর দ্রুতপদে চল্তে লাগ্ল। যখন চারিদিক আঁধার হয়ে এল তখন সে হ্রদের তীরে এসে পৌঁছিল। চারিদিকে চেয়ে সে হ্রদের উত্তর তীরে একটা প্রকাণ্ড গাছ দেখ্তে পেলে। বুঝ্লে এই সেই শাল্মলী তরু।
৫৮