কল্পশেখর হ্রদের তীর দিয়ে গিয়ে সেই শাল্মলী তরুর মূলে পৌঁছিল। তারপর তারি নীচে বসে’ পড়্ল।
চারিদিক তখন নিবিড় কালো আঁধারে ঢেকে গেছে—গভীর নিস্তব্ধতায় ভরে’ উঠেছে। আলকাৎরার চাইতেও কালো সে আঁধার, মৃত্যুর চাইতেও গভীর সে নিস্তব্ধতা। এমনি আঁধারের মাঝে, এমনি নিস্তব্ধতার মাঝে কল্পশেখর বসে‘ বসে’ হাজার চিন্তার জালে তার মনটাকে জড়াতে লাগ্ল।
কল্পশেখরের ত আজ যাত্রা শেষ। কিন্তু তরুণী!—কোথায় সে? সে কি এই কঠিন বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আস্তে পারবে এই তার গম্য—স্থানে—এই তার কাম্য স্থানে? পথে কত বিপদ কত আপদ অতিক্রম করে’ না কল্পশেখর আজ এই হ্রদের তীরে কত বৎসর পরে পৌঁছেছে—ওঃ কত বন সে যেন সৃষ্টির আগে হতে সারাজীবন যেন সে পথই চলেছে— এই সাহস এই ধৈর্য্য কি তরুণীর হবে?—ওঃ—তরুণি—তরুণি!
সহসা সেই গভীর নিস্তব্ধতা বিভিন্ন করে’ কার পায়ের শব্দ কল্পশেখরের কানে এসে বাজ্ল। কল্পশেখর উৎকর্ণ হায় সেই দিকে চেয়ে দেখ্ল। নিবিড় আঁধারে কিছুই দেখা যায় না—কিন্তু স্পষ্ট পদশব্দ স্পষ্ট হতে স্পষ্টতর হ’তে লগ্ল। ধীরে ধীরে কল্পশেখরের দৃষ্টি আঁধার ভেদ করতে সমর্থ হ’ল। সে দেখ্লে একটা মানুষের মূর্ত্তিই বটে—তারই পানে আস্ছে।
কল্পশেখরের শিরায় শিরায় শোণিত দুরন্ত নৃত্য লাগিয়ে দিল—তার হৃদয়ে যেন অসংখ্য বিদ্যুত—প্রবাহ পরস্পর মারামারি কাটাকাটি
৫৯