বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটা সত্য গল্প

কর্‌তে লাগল। কল্পশেখর উঠে সেই মূর্তিটির পানে অগ্রসর হ’ল। যখন তারা পরস্পর কাছাকাছি হ’ল তখন কল্পশেখর যেন অপরিচিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস কর্‌ল—“তুমি কে?”

 “আমি তরুণী।”

 মুহূর্ত্তে চারটি বাহু দুইটি দেহাকে জড়িয়ে নিল—তাদের আজীবন ব্যর্থ প্রাণের অনন্ত পিপাসা নিয়ে, চারটি অধর একটা নিবিড় চুম্বনে যুক্ত হ’ল—তাদের আজীবন পরিপুষ্ট হৃদয়ের অদম্য কামনা নিয়ে। তারপর আজীবন সাধনার সিদ্ধিলাভের শেষে জীবনব্যাপী ক্লান্তি যেন তাদের দুটি শরীরের ওপরে একেবারে ভেঙে পড়্‌ল—তারা সেইখানে বসে’ পড়্‌ল—তারপর ধীরে ধীরে পরস্পরের আলিঙ্গনাবদ্ধ হ’য়ে সেই পাষাণ শয্যায় ঘোর নিদ্রায় অভিভূত হয়ে পড়ল। পাষাণশয্যা?—না, সে—শয্যা পুষ্পের চাইতেও কোমল।

 পরদিন প্রথম ঊষার সঙ্গে সঙ্গে কল্পশেখরের ঘুম ভাঙ্‌ল। ধীরে ধীরে তার সব কথা মনে পড়্‌ল। সফল তার জীবন। আজীবনসাধনার ধন আজ তার আলিঙ্গনে। কল্পশেখর আলিঙ্গন—বদ্ধার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখ্‌ল—একি!!!

 উদ্যতফণা ফণিনীকে সামনে দেখ্‌লে পথিক যেমন লাফিয়ে উঠে দশ হাত পিছিয়ে যায়, তেমনি চক্ষের পলকে কল্লশেখর তাকে আপনার আলিঙ্গন—মুক্ত করে’ লাফিয়ে উঠে সেই পাষাণ শয্যার কাছ থেকে পিছিয়ে গেল। তারপর বজ্রাহতের মতো শূন্যদৃষ্টিতে তারি সারানিশার আলিঙ্গনবদ্ধা নিদ্রাভিভূতার দিকে তাকিয়ে রইল।

 নিদ্রাভিভূতা আলিঙ্গনচ্যুতা হ’য়ে ধীরে ধীরে চোখ মেল্‌ল।

৬০