বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

একটা আষাঢ়ে গল্প।

 কিসে যে কি হ’ল, আঠার বছর বয়সের রাজপুত্র চাঁদের মত মুখ, আকাশের মত চোখ, তারার মত দৃষ্টি, পদ্মের মত হাত, কবাটের মত বুক, একদিন মাকে এসে বললে—“মা, আমি রাজ্যও করব না, সংসারও করব না!”

 প্রৌঢ় রাজমহিষী সামনে একখানা আর্‌শি ধরে সিঁথিতে মোটা করে একটা সিঁদূরের রেখা টানতে যাচ্ছিলেন, রাজপুত্রের কথা শুনে তাঁর হাত কেঁপে উঠল, সিঁদূরের রেখাটা বেঁকে গেল। জিজ্ঞেস করলেন—“রাজ্যও করবি নে, সংসারও করবি নে তবে কি করবি?”

 রাজপুত্র উত্তর দিলেন—“একদিক বলে’ বেরিয়ে যাব মা।”

 মা জিজ্ঞেস করলেন—“সে দিকটা কোন্‌ দিক?”

 ছেলে উত্তর দিলেন—“সে—দিকটা কোনো একটা দিক নয় মা, সে—দিকটা সকল দিক।”

 রাজরাণী অনুনয়ের স্বরে বললেন— “এ কি পাগলামি বাবা রাজ্যও করবি নে, সংসারও করবি নে, এ রাজ্য দেখবে কে? প্রজাপালন করবে কে?”

 রাজপুত্র উত্তর করলেন—“কে করবে জানি নে মা, শুধু এই জানি যে, আমি এখানে হাঁপিয়ে উঠেছি। এই সাতমহলা পুরী, দ্বারে দ্বারে দ্বারী, উঠতে বসতে কায়দা—কানুন, খেতে—শুতে দণ্ড প্রহর গণা, দু’পা যেতে সঙ্গে সাত শ’ লোকের হৈ হৈ রৈ রৈ, একবার মুখ

৬৩