খুললে দশবার “যুবরাজের জয় হোক” শোনা! জীবনের প্রবাহ থেকে সব রস শুকিয়ে ফেলে যেন শক্ত পাথর দিয়ে ভরে’ দিয়েছে। এ থেকে আমি একবার ছুটী চাই, কেবল ছুটতে, খোলা আকাশের তলে মুক্ত বাতাসের মাঝে, সামনে পিছনে ডানে বাঁয়ে কোন শৃঙ্খল নেই, কেবল ছুট্তে, বন্ধনহীন শৃঙ্খলহীন কেবল ছুট্তে, আর ছুট্তে আর ছুট্তে; ব্রহ্মাণ্ডের আকাশটাকে চোখ ভরে’ দেখে নিতে, দিগন্তের বাতাসটাকে বুক পুরে টেনে নিতে; একবার, একবার আমি ছুটী চাই।”
রাজরাণী মনে করলেন রাজপুত্র পাগলই হ’ল না কি। তৎক্ষণাৎ রাজার কাছে খবর পাঠালেন।
রাজা এলেন! বৃদ্ধ রাজা, মাথার চুল সাদা, ভুরু সাদা, চোখের পাতা পয্যন্ত পেকে গেছে। যুবরাজ পিতৃচরণ বন্দনা করলেন। তারপর বললেন—“মহারাজ আপনার দাসানুদাস একবার মুক্তি চায়।” রাজরাজেশ্বর পরাজয় মানল, বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানের মাথার হাত বুলোতে বুলোতে বললেন —“এখানে কিসের অভাব বাবা, যে বনবাসী হবে, কোন দুঃখে এ সংসার ছেড়ে যাবে?”
যুবরাজ উত্তর করলেন—“মহারাজ! এখানে সব চাইতে বড় অভাব যে কোনো অভাব নেই। মহারাজ, আমি ঠিক জানিনে কোন্ দুঃখ বড়—অভাবের, না অভাবহীনতার। যেখানে মনে ইচ্ছার উদয় হতে না হতেই তা প্রতিপালিত হচ্ছে সেখানে মানুষ থাকে কি করে’, কোন্ অবলম্বনকে ধরে’ মানুষ সেখানে বাঁচবে? তার চাইতে মহারাজ আমার মনে হয় পথের মুটেটা পর্য্যন্ত সুখী, তার সামর্থের চাইতে
৬৪