বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা
একটী আষাঢ়ে গল্প

যে তার আকাঙ্ক্ষা বড়, তাই তার বাঁচবার মধ্যে একটা চিরন্তনের কৌতুক, চিরন্তনের রহস্য আছে যা কোনদিনই নষ্ট হয় না। মানুষের জীবনে একটা চিরন্তনের চেষ্টার দিক আছে বলেই সে—জীবনকে মানুষ সত্য করে পায়। যে জীবনে এই চেষ্টার দিকের আয়োজন নেই, আকাঙ্ক্ষা করবার কিছু নেই, সে জীবন মৃত্যুরই সামিল। সে জীবন স্বাস্থ্যবান দেহ—মন—প্রাণের পক্ষে বিষ। মহারাজ, এই মৃত্যু থেকে, এই বিষের সংস্পর্শ থেকে আমি ছুটী চাই। অন্ততঃ আমার দেহটাকে একবার ছুটিয়ে দিয়ে দেখতে চাই—মহারাজ অনুমতি দিন।”

 বৃদ্ধ রাজা একবার মুহূর্ত্তের জন্যে অতিপ্রয়াস করে মেরুদণ্ডটাকে ঋজু করে দাঁড়ালেন, দৃঢ়কণ্ঠে বলিলেন——“যুবরাজ! আমার অবসর গ্রহণের কাল উপস্থিত, রাজ্যের ভার তোমার, সেই রাজ্যের অবহেলা করে’ কর্ত্তব্যের অবমাননা করবে? শাস্ত্রবিরোধী ধর্ম্ম আচরণ করবে?”

 যুবরাজ উত্তর করলেন—“রাজরাজেশ্বর! রাজধর্ম্মের চাইতে মানুষের ধর্ম্ম বড়, মানুষের ধর্ম্ম যেখানে রাজার ধর্ম্মকে পরিত্যাগ করেই সফল হ’তে চায় সেখানে তাই—ই তার সত্য, তাই—ই তার শাস্ত্র। মানুষ রাজসিংহাসনে বসে গৌরব অনুভব করুক কিন্তু মানুষ রাজার চাইতে চিরকালের বড়। মহারাজ, আপনার পুত্রদের মধ্যে যারা রাজসিংহাসন আকাঙ্ক্ষা করে তারা রাজ্যশাসন করুক প্রজাপালন করুক, আমাকে এই বর্ণহীন বৈচিত্র্যহীন অভ্যাসের জঠর-চক্র থেকে মুক্তি দিন। আমি ঘুরতে চাই; কিন্তু তা চক্রে নয়—দিগন্তের পানে, আর নিজের ইচ্ছায়।”

৬৫