বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটা আষাঢ়ে গল্প।

 কিছুতেই কিছু হ’ল না। পাটরাণীর চোখের জল, বৃদ্ধ রাজার কাতর বচন, বুড়ো মন্ত্রীর অনুনয় বিনয় অনুরোধ উপরোধ কত বুঝোনো কত পড়ানো কিছুতেই কিছু হ’ল না। রাজপুত্রের কেবল এক কথা—মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, মুক্তি চাই।

 মন্দ সংবাদ বাতাসের আগে ধায়। সূর্য্যদেব আকাশের এক পোয়া—পথ যেতে না যেতে সারা রাজধানীতে দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়ল,—যুবরাজ যে মনের দুঃখে রাজ্য ছেড়ে চলে’ যাবেন!

 দেখতে দেখতে সেই আনন্দ—কোলাহলময়ী রাজধানী থমকে—থাকা অশ্রুভরা আঁখির মত ভার হয়ে উঠল, বিষন্ন হয়ে উঠল। যুবরাজ—যাঁর চাঁদের মত মুখ, আকাশের মত চোখ, তারার মত দৃষ্টি, পদ্মের মত হাত, কবাটের মত বুক, সেই যুবরাজ মনের দুঃখে কিনা বনবাসী হবেন! দোকানী দোকান পাট বন্ধ করল, ব্যবসায়ী তার আড়ত বন্ধ করল, ভিক্ষুক তার ভিক্ষা বন্ধ করল, নাগরিকেরা তাদের গৃহ হতে তাদের কর্ম্মস্থান হ’তে দলে দলে বেরিয়ে পড়ল। দলে দলে লোক রাজপ্রাসাদের দিকে ছুটতে লাগল। ধনী দরিদ্র উচ্চ-নীচ স্ত্রী—পুরুষ যুবক—যুবতী বৃদ্ধ—বৃদ্ধা ব্রাহ্মণ—বৈশ্য রাজপুরীর সামনে ক্রমে ক্রমে কোটী লোক জমা হ’ল। সকলেরই এক প্রতিজ্ঞা—আমরা যুবরাজকে যেতে দেব না। কোন্ দুঃখে কিসের অভাবে যুবরাজ এমন সোণার রাজ্য ছেড়ে বনবাসী হবেন? আমাদের যুবরাজ—যাঁর চাঁদের মত মুখ, আকাশের মত চোখ, তারার মত দৃষ্টি, পদ্মের মত হাত, কবাটের মত বুক, তাঁর দুঃখ কিসের? কি অভাব? আমাদের জানান সে অভাব, প্রাণ দিয়ে আমরা সে অভাব

৬৬