বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প।

পূরণ করব, না পারি তাতে জীবন দেব; কিন্তু যুবরাজকে ছাড়ব না।

 রাজপ্রাসাদের সামনে লোক গিস্ গিস্ করতে লাগল। কেবল মাথা আর মাথা আর মাথা—একটা মাথার বিরাট অরণ্য। সেই বিশাল জনারণ্য থেকে বিরাট গম্ভীর জলধি-কল্লোলের মত কোটী কণ্ঠে এক সঙ্গে ধ্বনিত হ'য়ে উঠল—“জয় যুবরাজের জয়”, “অঙ্গ-বঙ্গ-মগধ-মিথিলা-কাশী-কাঞ্চীর যুবরাজ জয় তরুণাদিত্যের জয়।”

 সেই কোটী কণ্ঠের বজ্র-নির্ঘোষনাদে সাতমহলা রাজপুরীর সাত-মহল কেঁপে উঠল, মহলে মহলে সব খাট পালঙ্ক আচমকা নড়ে উঠল, সাত মহলে শত রাণীর পোষা পাখীর দল তাদের খাঁচার ভিতরে ভীষণ চাঞ্চল্যের সঙ্গে এধার ওধার করে অর্থহীনভাবে উড়ে বেড়াতে লাগল, টিয়ে পাখীরা দাঁড়ে বসে' ভীষণ ব্যস্ততা সহকারে তাদের পায়ের শিকল কাটবার বৃথা চেষ্টা করতে লাগল, ময়ূরের দল মেঘ ডাকছে মনে করে তাদের পেখম খুলে দাঁড়াল।

 বজ্র-নিনাদে কোটী কণ্ঠ থেকে আবার ধ্বনি উঠল—“জয় যুবরাজের জয়”, ‘অঙ্গ-বঙ্গ-মগধ-মিথিলা-কাশী-কাঞ্চীর যুবরাজ জয় তরুণাদিত্যের জয়।”

 বৃদ্ধ মন্ত্রী বললেন, “যুবরাজ, সৌরজনের জনপদবাসীর এই স্নেহ এই অনুরক্তি অবহেলা করবার বিষয় নয়। সমস্ত সাম্রাজ্যের স্নেহ ভালবাসা উপেক্ষা করে' সংসারে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে একা একা থাকলে কোন্ উদ্দেশ্য সফল হবে যুবরাজ?”

 যুবরাজ উত্তর করলেন, “সংসারে বিচ্ছিন্ন হ'য়ে থাকতে কে চায়

৬৭