মন্ত্রী? কিন্তু অঙ্গ—বঙ্গ—মগধ—মিথিলা—কাশী—কাঞ্চীতে, এই বিশাল সাম্রাজ্যে সবার চাইতে বিচ্ছিন্ন কি, সবার চাইতে বিচ্ছিন্ন কে মন্ত্রী? এই সাম্রাজ্যের রাজসিংহাসন, এই সাম্রাজ্যের রাজা—নয় কি? এই বিরাট বিচ্ছিন্নতা যে আমাদের চোখে পড়ে না, তার কারণ সে শূন্য জায়গাটাকে যে আমরা অসংখ্য অসংখ্য আসবাব দিয়ে ভরে’ দিয়েছি—এই বিচ্ছিন্নতা ঢাকবার জন্যেই এই বিচ্ছিন্নতাকে ভুলিয়ে দেবার জন্যেই সে—সব আসবাবের এত আড়ম্বর, রাজা যত বড় তাঁর প্রজামণ্ডলী থেকে তার পারিপার্শিক থেকে তাঁর বিচ্ছিন্নতাও তত সম্পূর্ণ আর তাঁর আসবাব পত্রের আড়ম্বরও তত বেশি। বহু শতাব্দী বহু পুরুষ এই আড়ম্বর এই জাঁকজমকে আমরা ভুলে ছিলেম। মন্ত্রী, আর সম্ভব নয়, আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়, আমি থাকতে চাই সংসারে সহজ হয়ে, সংসারের নিবিড়তম সংস্পর্শে। তাই আমি রাজসিংহাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি চাই।”
মন্ত্রী বললেন, “যুবরাজ এই সাম্রাজ্যের সমস্ত প্রজামণ্ডলীর দাবী অগ্রাহ্য হবে? উপেক্ষিত হবে?”
রাজপুত্র উত্তর করলেন, “মন্ত্রী প্রজামণ্ডলীর দাবী রক্ষা করতে আমি তখনই পারব যখন আমার দাবীও সেই সঙ্গে সঙ্গে সফল হয়ে উঠবে! আমার মিথ্যা দিয়ে প্রজামণ্ডলীকে সত্য উপহার কেমন করে’ দেব? তাতে যে সার্থক কেউ—ই হ’য়ে উঠবে না।”
কিছুতেই কিছু হোল না। প্রজামগুলীর মুহুর্মুহূ জয়ধ্বনি, চতুর মন্ত্রীর যুক্তিতর্ক, বৃদ্ধ রাজার কাতর ভাব, কিছুতেই কিছু হোল না।
৬৮