বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প।

রাজপুত্রের কেবল এক কথা, আমি ছুটতে চাই, ছুটতে চাই, ছুটতে চাই, উদার আকাশের তলে অন্তহীন দিগন্তের পানে।

 বিশাল সাত মহল। রাজপুরী—কত হাসি কত গান কত আমোদ কত উৎসব কত কলরব, সব এক বিরাট নৈরাশ্যের ছায়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। নহবতে নহবতে রসুনচৌকির সুর আর ফুটল না, ঘোড়াশালে লক্ষ ঘোড়া তাদের খাওয়া বন্ধ করল, হাতীশালে হাজার হাতীর চোখ দিয়ে টস্ টস্ করে’ জল পড়তে লাগল, ময়ূরের দল আর নাচল না, শারী শুকেরা ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে কাঁদতে বসল, হায়! যুবরাজ, যাঁর চাঁদের মত মুখ, আকাশের মত চোখ, তারার মত দৃষ্টি, পদ্মের মত হাত, কবাটের মত বুক, তিনি কি না এমন সোণারসংসার ছেড়ে চলে যাবেন! আনন্দের পুরী অশ্রুতে অশ্রুতে ভরে’ উঠল।

 কিছুতেই যখন কিছু হোল না তখন রাজা সর্ব্ববিঘ্ননাশন এক যজ্ঞ করতে আদেশ করলেন।

 প্রকাণ্ড এক যজ্ঞমণ্ডপ উঠল। যজ্ঞমণ্ডপ আগাগোড়া শুভ্র বস্ত্রমণ্ডিত হ’য়ে সত্য প্রস্ফুটিত শ্বেত পদ্মের মত শোভা পেতে লাগল। দেশ বিদেশ থেকে কত ব্রাহ্মণ কত পণ্ডিত এলেন, কাশী কাঞ্চী মগধ মিথিলা কোশল পাঞ্চাল, উত্তর দক্ষিণ পূর্ব্ব পশ্চিম, কত কত দিক দেশ থেকে ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত সব এসে যজ্ঞমণ্ডপ জুড়ে’ বসলেল। যজ্ঞমণ্ডপ একেবারে গম্ গম্ করতে লাগল। কত পুরোহিত ঋত্বিক! বৈদিক মন্ত্রের গম্ভীর ধ্বনিতে যজ্ঞমণ্ডপ গুম্ গুম্ করে’ উঠল। হোমের আগুন লক্ লক্‌ জিহ্বা মেলে দিয়ে আকাশপানে দব, দব করে’ জ্বলে উঠল। অঞ্জলি অঞ্জলি আজ্যির

৬৯