বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প

সঙ্গে স্বাহা স্বাহা ধ্বনিতে সমস্ত ঘর ধ্বনিত হয়ে উঠল। যজ্ঞ শেষ হয়ে গেল। রাজপুত্র যজ্ঞভষ্মের ফোঁটা কপালে এঁকে লক্ষ ব্রাহ্মণের আশীবর্বাদ সঙ্গে নিয়ে প্রকাণ্ড এক সাদা ঘোড়ায় সোয়ার হলেন। রাজা এসে বললেন—“কুমার, আবার যেন ফিরে এসো।” রাণী এসে বললেন—“বাবা, আবার যেন ফিরো।” মন্ত্রী এসে বললেন—“যুবরাজ, আবার যেন ফিরে আসেন।” মন্ত্রীপুত্র কোটালের পুত্র এসে বললেন—“বন্ধু দেখো যেন চিরকাল ভুলে থেকো না—আবার ফিরে এসো।” রাজপুত্র হাসি মুখে সবাইকে বিদায় দিয়ে, সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সিংহদ্বার দিয়ে বেরিয়ে বায়ুবেগে ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন।

(২)

 প্রকাণ্ড ঘোড়া—দুধের মত রঙ্, রাজহংসীর মত গ্রীবা, রেশমের মত গা, বায়ুবেগে ছুটে চলল। রোদ পড়ে’ তার সাদা রেশমী গা চিক্ মিক্ করতে লাগল, খোলা আকাশের মুক্ত বাতাস তার নাসারন্ধে প্রবেশ করে’ যেন তাকে উন্মত্ত করে’ তুলল, ঘোড়া যেন পাখা লাগিয়ে বাতাসের আগে উড়ে চলল। রাজপুত্র ছুটে চললেন যেদিকে দু’চোখ যায়। এ রাজার মুল্লুক ছেড়ে ও—রাজার মুল্লুকে, ও-রাজার মুল্লুক ছেড়ে সে—রাজার মুল্লুকে, সে—রাজার মুল্লুক ছেড়ে আর রাজার মুল্লুকে, এমনি করে ছুটে চললেন। কত নদ নদী পর্ব্বত পল্লী নগর কত কানন প্রান্তর পার হয়ে রাজপুত্র ছুটে চললেন, ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই, আহার নেই, নিদ্রা নেই। যে রাজ্যের ভিতর দিয়ে যান সেখানেই পুরুষরা বলাবলি করে—“আঃ কে এমন ভাগ্যবান যে

৭০