এমন পুত্রের জন্ম দিয়েছে। কুলাঙ্গনারা বলে, “উঃ, কেমন নিষ্ঠুর ম। যে এমন ছেলেকে ছেড়ে জীবনধারণ করছে।” রাজপুত্র কত রাজ্য ছাড়িয়ে গেলেন অঙ্গ বঙ্গ, মগধ মিথিলা, কৌশল পাঞ্চাল, চোল চালুক্য, পল্লব পাণ্ড্য, অবন্তী দ্বারকা— কত কত রাজ্য। এর পর ছুটতে ছুটতে একেবারে পৃথিবীর শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছিলেন। আর চলবার উপায় নেই। সামনে ডা’নে বায়ে কেবল জল আর জল আর জল, কেবল নীল আর নীল আর নীল। সেই নীল জলের বুকে সাদা ফেনার মুকুট মাথায় দিয়ে লক্ষ ঊর্ম্মিবালারা সব হেলছে দুলছে উঠছে পড়ছে হাসছে, নাচছে। নৃত্যেরও বিরাম নেই মুখরতারও ক্লান্তি নেই। এখানে ছল্ ছল্ ছল্ ছল্ ছলাৎ, ওখানে চল্ চল্ চলাৎ; এমনি করে’ সব লুটো—পুটি খাচ্ছে। পিছনের সমস্ত পৃথিবীর কল কোলাহল এখানে এসে থমকে গেছে, সমস্ত সংগ্রাম এখানে এসে লজ্জায় অবশ হ’য়ে গিয়েছে। এখানে কেবল একটা বিরাট নির্লিপ্ততা, সকল প্রকার সংকীর্ণতাকে যা মুক্তি দিয়েছে, সকল প্রকার বিরোধকে যা অসত্য করে’ তুলেছে।
নোনাজলের গন্ধ পেয়ে রাজপুত্রের ঘোড়া আনন্দে চিঁহিঁহিঁ করে উঠল। রাজপুত্র ঘোড়া থেকে নেমে পড়লেন। তার পর লাগাম ঘোড়ার ঘাড়ের উপর ফেলে দিয়ে সমুদ্রের শুভ্র সৈকতে চিক্কণ বালির উপরে বসে পড়লেন। রাজপুত্রের দৃষ্টি নিবদ্ধ হ’য়ে গেল সেইখানে যেখানে সমস্ত আকাশটা নীচু হ’য়ে নেমে এসে সমস্ত সাগরটাকে আপনার বুকে জড়িয়ে ধরেছে।
তখন সন্ধ্যা লেগে এসেছে। সমুদ্রের ঠাণ্ডা হাওয়া রাজপুত্রের
৭১