বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প

সারা শরীরে স্নিগ্ধ আদর ঢেলে দিতে লাগল। সে স্নিগ্ধ আদরের স্পর্শে রাজপুত্রের চোখ দুটো অম্‌নি বুঁজে বুঁজে আসতে লাগল। রাজপুত্র আর বসে’ থাকতে পারলেন না, ধীরে ধীরে তন্ত্রামগ্ন হ’য়ে শুভ্র বালুশয্যায় ঢলে’ পড়লেন।

 সেই আধ—জাগা আধ—ঘুমের অবস্থায় রাজপুত্রের মনে হল’ যেন হঠাৎ তার দু’কানের উপর থেকে দুটো পরদা খসে গেল। আর ঐ যে সমুদ্রের বিরামহীন মুখরতা, ও ত কেবল অর্থহীন কল্ কল্ ছল্ ছল্ ছলাৎ নয়। ঐ যে সমুদ্র আবহমান কাল ধরে’ স্পষ্ট ভাষায় গান গাচ্ছে! আধ—ঘুমে রাজপুত্র শুনলেন সমুদ্র গাচ্ছে—

দুল্‌বি ওরে দুল্‌বি যদি আমার সুনীল দোলাতে
নাম্‌রে আসি’ আমার বুকের জীবন—মরণ-খেলাতে।

দিগন্তে যে বইছে বায়
অনন্তে যে স্বপ্ন ছায়

অন্তিমেতে পারব আমি তোদের সে সব মিলাতে।


কূলের মায়া করিস্ কে রে? অকূলে কার নাইরে টান?
একটি বারে সাহস কর,’ শোন্‌রে আমার বুকের গান।

পলে পলে নিত্য করি’
হিয়ায় পুলক উঠ্বে‌ ভরি’

ছুটবে তরী আকুল বায়ে লব্ধ করি’ শ্রেষ্ঠ দান।


আমার বুকেই মুক্তি পেল ওই রে তোদের জাহ্নবী।
আমার বুকের নেয় নি স্নেহ কোন্ কবি সে কোন্ কবি?

৭২