বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প।

আমার বুকেই চন্দ্র-তারা
সারা নিশীথ তন্দ্রাহারা

এই বুকেরই পাঁজরা থেকে ঊষায় জাগে হেম রবি।


এই বুকেতেই গুপ্ত ছিল সুর—অন্তরের সুধা রে
এই বুকেতেই মুক্ত চির মর্ত্ত্য—মনের ক্ষুধা রে।

এই হিয়ার তলে তলে
শুক্তিবুকে মুক্তা জ্বলে

ঊর্মিমালার সঙ্গে চলে মর্ত্ত্য—মনের সুধা রে।


এই বুকেরই’ পরে আকাশ নামায় অসীম তার কায়া
মুক্ত ওরে কুণ্ঠাবিহীন হেথায় মাটীর সব মায়া।

বদ্ধ মাটীর ক্ষুদ্র প্রাণী
আমার বুকের নিশাস্ টানি’

দেখ্লে প্রাণে তার গোপনে লুকিয়ে অসীম কোন্ ছায়া!


 রাজপুত্র ফিরে ফিরে যেন কেবলই শুনতে লাগলেন—

দুল্‌বি ওরে দুল্‌বি যদি আমার সুনীল দোলাতে

 শুনতে শুনতে যেন স্থনীল দোলায় দোল খেতে খেতে রাজপুত্র একেবারে সংজ্ঞাহীন হ’য়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

 রাজপুত্রের যখন ঘুম ভাঙল তখন আকাশগায়ে অপ্সরীদের জ্যোছনার আল্‌পনা দেওয়া শেষ হ’য়ে গেছে। আধার কেটে চারিদিক একটা অস্পষ্টতার মাধুর্য্যে ভ’রে গিয়েছে। রাজপুত্র এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলেন—হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল তাঁর ডান দিকে

৭৩