কিছু দূরে একেবারে সমুদ্রের বুক থেকে একটা ছোট্ট কালো পাহাড় উঠেছে আর সেই কালো পাহাড়ের উপরে একটা কি সাদা ধব্ ধব করছে। রাজপুত্র উঠে সেই দিকে যাত্রা করলেন।
রাজপুত্র পাহাড়ে উঠে দেখলেন এক প্রকাণ্ড রাজপুরী শঙ্খে গড়া। শঙ্খের দরজা শঙ্খের জান্লা শঙ্খের ঘর শঙ্খের দেয়াল শঙ্খের সিঁড়ি, আগাগোড়া শঙ্খে গড়া। কিন্তু জনপ্রাণী শূন্য। শঙ্খের প্রকাণ্ড সিংহদরজা খোলা, শাস্ত্রী নেই প্রহরী নেই, নবৎখানায় রসুনচৌকি নেই। রাজপুত্র সিংহদ্বার দিয়ে প্রবেশ করে’ অশ্বশালে গেলেন। দেখলেন অশ্বশালে অশ্ব নেই, অশ্বপাল নেই, সব শূন্য। সেইখানে আপন ঘোড়া বেঁধে দানা-জল দিয়ে রাজপুত্র রাজপ্রাসাদে গিয়ে প্রবেশ করলেন।
রাজপ্রাসাদে জনপ্রাণী বলতে কেউ নেই। চারিদিকে থম্ থম্ করছে। শঙ্খে—গড়া প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড থামে জ্যোছনা পড়ে চক্ চক্ করছে, খোলা জান্লা দিয়ে জ্যোছনা এসে শঙ্খ,—গড়া মেঝেতে পড়ে’ তা ধব্ ধব্ করছে। মহলে মহলে জ্যোছনার আলো আর ঘরের ছায়া জড়িয়ে চারদিক যেন আরও নিবিড় আরও গভীর হয়ে উঠেছে। রাজপুত্র এ ঘর থেকে সে—ঘর, এ—কক্ষ থেকে সে—কক্ষ, এ—মহল থেকে সে—মহল করে’ ফিরলেন। কোথাও একটু মানুষের ভাঁজ নেই। যেন সাগর—পারের কোন্ মায়াবিনী সাগর বুকের কোটি শঙ্খ কুড়িয়ে অমনি অমনি এক রাজপুরী তৈরী করে’ রেখেছে।
শাদা ধব্ ধবে শঙ্খের সিঁড়ি। তাই বেয়ে রাজপুত্র দ্বিতলে উঠলেন। কক্ষে কক্ষে কত আসবাব—পত্র। শয়ন কক্ষে শঙ্খের
৭৪