পালঙ্ক পাতা, ভোজন কক্ষে শঙ্খের গালিচা বিছানো, স্নানের ঘরে সব আড়—দেওয়া শঙ্খের চৌবাচ্চা, কেবল জনপ্রাণী বলতে কেউ নেই। আর সার সার শঙ্খের পিজরে ঝুলছে সব শূন্য, একটায়ও পাখী নেই। সার দেওয়া টিয়েপাখীর দাঁড় ঝলছে, সব শূন্য একটা টিয়ে নেই। এমনি সুন্দর সে রাজপুরী আর এমনি নিস্তব্ধ, যেন তা এক পরমা সুন্দরী রাজকন্যা কিন্তু রূপোর কাঠি ছোঁয়ান। কোথায় সে সোণার কাঠি যে কাঠিতে রাজকন্যা জাগবে। কোন্ সে রাজপুত্র যে সোণার কাঠি খুঁজে আনবে! রাজপুত্র এ—ঘর ও—ঘর আর কত করবেন, তাঁর দু’পা ধরে’ গেল। ক্লান্ত দেহে তখন তিনি গিয়ে একটা পালঙ্কে বসে’ পড়লেন। অমনি যেন পালঙ্ক ধীরে ধীরে দুলতে লাগল রাজপুত্রের চোখ বুঁজে বুঁজে আসতে লাগল। চারিদিকে গম্ভীর নিস্তব্ধতা, আর মধ্যে রাজপুত্র যেন কেবল শুনতে লাগলেন—
দুল্বি ওরে দুল্বি যদি আমার সুনীল দোলাতে—
শুনতে শুনতে পালঙ্কের উপরে রাজপুত্র একেবারে বেঘোরে ঘুমিয়ে পড়লেন।
(৩)
তার পরদিন রাজপুত্রের যখন ঘুম ভাঙল তখন সূর্য্যদেব সমুদ্রের নীল বুক থেকে একটুকু কেবল মাথা তুলেছেন, ঘুমের জড়িমা তখনও তাঁর চোখ থেকে যায় নি, লম্পট সেই ঢুলু ঢুলু নেত্রেই ঊর্মিমালাদের গায়ে গায়ে সোণালি সোহাগ ঢেলে দিয়েছেন! দু’ একটা অশান্ত রশ্মি তাঁর চোখ থেকে ছুট দিয়ে একেবারে রাজপ্রাসাদের উঁচু চূড়াতে
৭৫