বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দ্রুতগামী অশ্বখুরের খটাখট্ শব্দে নিদ্রিত নাগরিকেরা চকিত হ'য়ে উঠে বসল। বেলা হলে ইস্পাহানের বাজারে বাজারে রটে গেল যে, হিন্দুস্থান থেকে চিত্রকর আসছে—নতুন বেগমের তসবীর আঁকবার জন্যে।

(২)

 বাদশা আমীর ওমরাহ্ দের নিয়ে তাঁর খাস দরবারে বসে' ছিলেন। ইরাণ-তুরাণের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি তায়েজউদ্দিন সেদিন হেমন্তসন্ধ্যার মত করুণ কণ্ঠস্বরে বাদশা-সমীপে সুন্দরী তরুণীর অশ্রুভেজা ব্যথিত কালো আঁখি-তারার মত একটা নব রচিত গজল সারেঙ্গী সহযোগে গান করছিলেন। গজল বলছিল—“রূপোর দেয়ালী লেগেছে - এমনি নিবিড় জোছনা, যেন মনে হয় তা মুঠো বেঁধে দলা পাকিয়ে ঢিল ছোঁড়াছোঁড়ি খেলা যায়, শিশির-ভেজা পাতায় পাতায় জোছনা ছলকে উঠে পিছলে পড়ছে—দূর এলবুরুজ পাহাড়তলীর বুবুল্লা সব আর সেদিন ঘুমুতে যায় নি―তাদের গানের সুর ঘন জোছনার বুক চিরে চিরে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছেএমনি রাতে নিঠুরা পিয়ারী বাহুর বাঁধন আলগা করে কাউকে কিছু না বলে ক’য়ে কোন্ অজানার পথ ধরে' কোথায় চ'লে গেল— কোথায় গেল.....”

 চারিদিকে মেঘে মেঘে ছেয়ে গিয়েছে— কালো কালো মেঘ, বিদ্যুৎ বুকে করা মেঘ। এলবুরুজ পাহাড়তলীর ময়ুরের দল পেখম তুলে নৃত্য করে করে' তাদের কেকা রবে চারিদিক মুখর করে তুলেছে। বারি ঝরতে আরম্ভ করল, ঝর্ ঝর্ ঝর্—বিরাম নেই