গিয়ে চড়ে বসেছে। রাজপুত্র চোখ মেলেই দেখেন তাঁর পালঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে এক পরমা সুন্দরী বালিকা।
পরমা সুন্দরী! জ্যোস্নাবরণ তার রঙ, সোনার বরণ তার চুল, আকাশবরণ তার চোখ। সে রঙে চারিদিক উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, সে চুল একেবারে হাঁটুতে এসে পড়েছে, সে চোখে আকাশের বুকের মত প্রশান্ত আর সাগরের বুকের মত গভীর দৃষ্টি, রক্ত কমলের মত দু’খানি হাত, পা দেখা যায় না, কটিদেশ থেকে সাগরবরণ একটা ঘাঘ্রা নেমে পা দুটি ঢেকে একেবারে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, সারা দেহে আর দ্বিতীয় বস্ত্র নেই, সব অনাবৃত। দুটি হাতে দুখানি মুক্তা বসান শঙ্খের কাঁকন—আর দ্বিতীয় অলঙ্কার নেই।
রাজপুত্র বিস্মিত হয়ে পালঙ্কের উপরে উঠে বসলেন, প্রশংসার আলোকে তাঁর দুটি চোখ উজ্জ্বল হ’য়ে উঠল। রাজপুত্র বালিকার দিকে কতক্ষণ চেয়েই রইলেন, মনে মনে বললেন, এমন ত কখন ও দেখিনি। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, “বালা তুমি কে? তোমা আমি ভালবাসব।”
অমনি নবৎখানায় রসুনচৌকি বেজে উঠল। রাজপুত্র আশ্চর্য্য হত’য়ে বললেন—“একি! রসুনচৌকি বাজে কোথা থেকে, কাল যে সব শূন্য ছিল!”
বালিকা বললে—“আজ যে আমি এসেছি!”
অমনি হাজার পাখীর সুমিষ্ট কাকলি জেগে উঠল। রাজকুমার বিস্মিত হ’য়ে বললেন—“একি! এত পাখী ডাকে কোথা থেকে, পিঁজরে যে সব শূন্য ছিল!”
৭৬