বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প।

 বালিকা তেমনি উত্তর দিলে—“আমি যে আজ এসেছি!”

 অমনি হাতীশালে হাজার হাতী বৃংহতিনাদ করে উঠল, ঘোড়শালে লক্ষ ঘোড়া চিঁহিঁহিঁ করে উঠল। রাজপুত্র চমৎকৃত হয়ে বললেন——“এত হাতী এত ঘোড়া এল কোথা থেকে, কাল ত কিছুই ছিল না?”

 বালিকা আবার তেমনি উত্তর করলে——“রাজকুমার, আজ যে আমি এসেছি!”

 রাজপুত্র ছুটে ঘর থেকে বেরুলেন। দেখলেন বারান্দায় সার সার পিঁজরেতে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী উড়ছে, নাচছে, গাচ্ছে, ডানা নাড়ছে, গা ঠোকরাচ্ছে। রাজপুত্র নীচে নামলেন। কোথায় সে নিস্তব্ধ পুরী। চারিদিকে লোকজনে একেবারে গম্ গম্ করছে। দাস দাসী শাস্ত্রী প্রহরী দৌবারিক প্রতিহারী যেন মুহূর্ত্তে কোন্ সোনার কাঠির স্পর্শে সব জেগে উঠেছে। দরজায় দরজায় শাস্ত্রীরা সসম্ভ্রমে অভিবাদন করে’ রাজপুত্রের পথ ছেড়ে দিলে। রাজপুত্র হাতীশালে গিয়ে দেখেন হাজার হাতী হাজার মাহুত। ঘোড়াশালে গিয়ে দেখেন লক্ষ ঘোড়া লক্ষ সোয়ার। রাজপুত্র তেমনি ছুটে আবার উপরে উঠলেন। বালিকাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন——“তুমি কে?”

 বালিকা একটু মৃদু হাসলে। যেন রক্তকমলের ন্যায় দুটি পাঁপড়ির ফাঁকে এক সার ঘন বিন্যস্ত যূথীর কলি জেগে উঠল। বালিকা হেসে বললে——“আমার নাম প্রেম।”

 “প্রেম?——বড় ত সুন্দর!” রাজপুত্র প্রেমের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, সে নীল চোখে কি এক গভীর দৃষ্টি, তার তলই

৭৭