পাওয়া যায় না। সে-দৃষ্টিতে রাজপুত্র যেন একেবারে হারিয়ে গেলেন। বললেন—“প্রেম, আমি তোমায় ভালবাসি——আমাকে ভালবাসবে?”
প্রেম উত্তর দিলে——“রাজকুমার, আমাকে যে ভালবাসে আমিও তাকে ভালবাসি।
রাজপুত্রের বুকের কাছটায় যেন কি একটা ফেটে গিয়ে তার ভিতরকার রঙীন স্রোত তাঁর সমস্ত শিরায় উপশিরায় চারিয়ে গেল, তারি নেশায় তাঁর দেহের প্রত্যেক অণু পরমাণু নেচে উঠল। ওরে মুর্খ, ওরে নির্ব্বোধ! ব্যর্থতা কোথায়?—— সাতমহলা পুরীতে নয়, দ্বারে দ্বারে দ্বারীতে নয়, খেতে শুতে দণ্ড প্রহর জানানোতে নয়, সাত শ’ লোকের হৈ হৈ রৈ রৈ—তে নয়——আছে তা কেবল হৃদয়ের সুন্দরহীনতায়, আছে তা কেবল জীবনের জডত্বে। এই ত আজ সাতমহলা পুরী, দ্বারে দ্বারে দ্বারী, তবে এর দেয়াল এমন রঙীন হয়ে উঠল কেন?——অন্তরের ঐ আগুন লেগে রে নির্ব্বোধ! শিরায় উপশিরায় ঐ নেশা লেগে। রাজপুত্র বললেন——“প্রেম, যদি তোমায় পেতেম তবে আমার নিজ রাজ্য ছেড়ে আসতেম না।”
প্রেম জিজ্ঞেস করল——“তোমার নিজ রাজ্য? সে কোথায় রাজকুমার?”
দু’জনে গিয়ে পালঙ্কে বসল। তারপর রাজপুত্র আপনার কাহিনী বলতে শুরু করলেন। কেমন করে’ তাঁর সংসারে বিতৃষ্ণা জন্মিল, কেমন করে’ পিতার ইচ্ছা, মন্ত্রীর অনুরোধ, মায়ের চখের জল, প্রজামগুলীর অনুরাগ, সমস্ত উপেক্ষা করে’ তিনি রাজা ছেড়ে
৭৮