বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আবাঢ়ে গল্প।

চলে’ এলেন। তারপর কত রাজ্যের ভিতর দিয়ে দিন নেই রাত নেই নিদ্রা নেই, আহার নেই, ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই——তিনি ঘোড়া ছুটিয়ে রাত দিন কেবল ভ্রমণ করেই বেড়ালেন। তারপর অবশেষে কেমন করে’ এই শঙ্খের রাজপুরীতে এসে পৌঁছিলেন, রাজপুত্র অনর্গল কথা বলে’ যেতে লাগলেন যে, সে কত গল্প, তাঁর মুখ দিয়ে যেন গল্পের স্রোত বেরিয়ে আসতে লাগল। কোন্ দিক দিয়ে দিন কেটে গেল। সূর্য্য সারা আকাশ দিয়ে গড়িয়ে গিয়ে পশ্চিম সমুদ্রে ঝুপ করে’ ডুব দিলেন, পশ্চিম আকাশে সোনালি আবির উড়তে লাগল, নবৎখানায় পূরবী রাগিনি বেজে উঠল, ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে এল, রাজপুরীর লক্ষ কক্ষে লক্ষ দীপ জ্বলে উঠল প্রেম পালঙ্ক থেকে চম্কে নেমে দাঁড়াল, বলল——“রাজকুমার, আমার যাবার সময় হ’ল আজ তবে আসি।”

 ——“আজ তবে আসি? সে কি প্রেম! সে কি প্রেম!”——রাজপুত্র ব্যথিত আকুল কণ্ঠে বললেন——“তুমি এই যে বললে আমায় ভাল বাসবে, তবে আবার কোথায় যাবে?”

 প্রেম বললে——রাজকুমার, আমাকে এখন নিজ ঘরে ফিরতে হবে, কাল আবার আসব।”

 রাজপুত্র আশ্চর্য্য হয়ে বললেন——“তোমার নিজ ঘর!——সে আবার কেথায়? আমি যে মনে করেছিলেম তুমি এই রাজপুরীরই রাজকন্যা, কাল কোথায় কোন্ মহলে লুকিয়ে ছিলে।”

 প্রেম উত্তর করলে——“না রাজকুমার আমি রাজপুরীর রাজকন্যা

৭৯