বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প

হালকা! কেবলই হালকা, না তার চাইতেও বেশি, সে কি তৃপ্তির কি শান্তির, সে কি সার্থক! এই শৃঙ্খলে আজ তাঁর এ কী মুক্তি! বাইরের দু’ বছরের তাঁর স্বাধীনতার মুক্তি, কেবল শূন্যের বোঝায় সে কী ভারাক্রান্ত! কী অশান্ত! আর আজ এই শৃঙ্খলে মুক্তি ঐশ্বর্য্যে সে কী সম্পদময়, কী শান্তিপূর্ণ!

 রাজপুত্র স্বপ্নে কেবল বালিকাকেই দেখতে লাগলেন, তার আকাশ—বরণ চোখ——সে চোখের সাগর—গভীর দৃষ্টি।

(৪)

 দু’ বছর কেটে গেল। রোজ সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রেম তার জ্যোছনা—বরণ রঙ, সোনার—বরণ চুল, আকাশ—বরণ চোখ, সাগর—বরণ ঘাঘরা নিয়ে রাজপুরীতে উপস্থিত হয়। রাজপুত্রের সঙ্গে গল্পে—গানে সারা দিন কাটীয়ে আবার সূর্য্য—ডোবার সঙ্গে সঙ্গে চলে’ যায়। দুটি বছরের প্রত্যেক দিনটি ঠিক একই ভাবে কেটে গেল। সেই একই রাজপুরী, মহলে মহলে একই দাসদাসী, তাদের একই আনাগোনা, দেউড়ীতে দেউড়ীতে একই শাস্ত্রী প্রহরী, এদের একই সোর—গোল, নহবতে নহবতে একই রসুনচৌকি, তার ভোর—দুপুর সন্ধ্যায় একই সুর, সেই সবই এক, কেবল এক যা’ রইল না সে হচ্ছে রাজপুত্র নিজে।

 সেই সাতমহলা পুরীতে রাজপুত্র আর এক রইলেন না! দু’বছর আগে যখন তাঁর প্রেমের সঙ্গে দেখা হয় তখন কি তৃপ্তিতেই তাঁর অন্তরাত্মা ভরে’ গিয়েছিল, কি আনন্দের আলোকেই তাঁর চোখ দু’টি উজ্জ্বল হ’য়ে উঠেছিল, কি শান্তিতেই তাঁর অস্তিত্ব জুড়িয়ে গিয়েছিল।

৮১