বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প

আর আজ, আজ তাঁর অন্তরাত্মার এ কি আসোয়াস্তি, তাঁর চোখ দু’টিতে কি এক জ্বালা, কি এক বিরাট রাক্ষসী ক্ষুধার অবলেপ, এ কি নিবিড় ব্যথা! রাজপুত্রের চোখ দুটি তার সমস্ত জ্বালা নিয়ে প্রেমের মুখ থেকে ধীরে ধীরে নেমে তার বুকে গিয়ে নিবদ্ধ হ’ল। আঃ ঐ যে ঐ বুকের উপরে ঠিক তাঁরই হাতের মাপে মাপে দুটি পদ্মের কলি কে জাগিয়ে তুলছে। ঐ যে’ সেই পদ্মকোরক দু’টির শীর্ষদেশটায় লালচে আভা, তা বুঝি তাঁরই হৃদয় শোণিতের অবলেপ।

 ছিলে গো ছিলে, প্রেম! তুমি একদিন অতি সুকুমার ছিলে, আমি একদিন অতি কিশোর ছিলেম, সেদিন আমাদের মিলন ছিল একটু হাসির মিলন, একটি দৃষ্টি বিনিময়ের মিলন। আজ এ প্রদীপ্ত যৌবনে সে অল্পে সুখ কোথায়, তৃপ্তি কোথায়, আনন্দ কোথায়? এ যৌবনের উন্মত্ততাকে কি দিয়ে শান্ত করবে প্রেম? একটি দৃষ্টি দিয়ে? দু’টো কথা দিয়ে? একটুকু হাসি দিয়ে?——সে স্বল্পতাকে জীবন যে কখন ছাড়িয়ে গেছে!

 না, না প্রেম! আজ আমি চাই তোমার নিবিড়তম আলিঙ্গন। তোমার কথা, তোমার গান, সে যে আজ কত ব্যবধানের। আজ চাই তোমার ঐ দেহ—বল্লরী আমার এই বিশাল বুকের উপরে পিষ্ট হ’য়ে যাবে, তোমার হাসি তোমার দৃষ্টি, সে যে আজ কত স্বল্পতার! বুকে বুকে মুখে মুখে চোখে চোখে দেহের প্রত্যেক অণুতে অণুতে আজ মিলন, আজ বিনিময়——তবেই আজ তৃপ্তি, তবেই আজ আমার এ আত্মার বিদ্রোহের শান্তি। আমার এ রাক্ষসী ক্ষুধার কাছ থেকে

৮২