বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প।

কি দিয়ে অত্মরক্ষা করবে প্রেম? কি দিয়ে? আমি চাই এর চাইতে কোন্ আর তোমার বড় সত্য আছে প্রেম? কোন্ বড়? আমি চাই——কেবল অশরীরী তোমাকে নয়, তোমার দেহের প্রত্যেক অণুটির জন্যে আজ আমার দেহের প্রত্যেক অণুটি উন্মাদ। এ উন্মাদকে কি দিয়ে ঠেকাবে? এ উন্মাদকে কিসের সান্ত্বনা দেবে? একটু হাসির? একটু গানের?——পাগল!

 সূর্য্য ডুবে গেল, নবৎখানায় পূরবী রাগিনী বেজে উঠল, হাজার কক্ষে হাজার দীপ জ্বলে’ উঠল। প্রেম পালঙ্ক থেকে নামতেই রাজপুত্র উঠে দাঁড়িয়ে বললেন——“প্রেম! একদিন ও কি আমার এই রাজপুরীতে রাত্রিযাপন করবে না? অমরত্বকে কি চিরকাল এড়িয়ে চলবে?”

 প্রেম চমকে উঠল, তার শঙ্খের মত কান দুটো গোলাপের মত লাল হ’য়ে উঠল, গোলাপের মত গণ্ড দুটি শঙ্খের মত সাদা হয়ে গেল, শুকনো চোখ সজল হয়ে এলো, সরস ঠোঁট শুকনো হয়ে গেল। প্রেম তার দৃষ্টি রাজপুত্রের চোখের উপরে স্থাপিত করে’ বললে——“রাজকুমার, তোমার জন্যে আমি জীবন দিতে পারি কিন্তু এখানে রাত্রিবাসের আমার উপায় নেই।”

 রাজপুত্র দেখলেন প্রেমের চোখ দুটিতে কি এক দৃষ্টি, সে দৃষ্টিতে কি এক নীরব মিনতি, কি এক করুণ ভর্ৎসনা। রাজপুত্র সে দৃষ্টি সহ্য করতে পারলেন না। তাঁর দৃষ্টি অবনত হ’য়ে গেল। রাজপুত্র যখন চোখ তুললেন তখন দেখলেন তিনি একা। প্রেম কখন চলে গিয়েছে।

৮৩