রাজপুত্রের অন্তরে যেন সহস্র শার্দুল গর্জ্জে উঠল, লক্ষ ফণী ফণা বিস্তার করে’ রক্ত চক্ষু মেলে দিল। অত্যাচার, অত্যাচার, আমি এ অত্যাচার সহ করব না। আমি চাই চাই—ই প্রেমকে, আরও কাছেআরও কাছে, আরও কাছে। এ চাওয়াকে চিরকাল ব্যর্থ হতে দেব না।
রাজপুত্র ডাকলেন—“প্রতিহারী, প্রতিহারী।”
প্রতিহারী ত্রস্তে এসে অভিবাদন করে দাঁড়াল। রাজপুত্র খানিকক্ষণ শির নত করে’ কি চিন্তা করলেন তারপর মাথা তুলে বললেন—“আচ্ছা তুমি যাও।”
রাজপুত্র সেদিন সারারাত পিঞ্জরাবদ্ধ শার্দ্দুলের মত পায়চারি করে বেড়ালেন।
পরদিন সূর্য্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন প্রেম এলো তখন রাজপুত্র তাকিয়ে দেখলেন, সে কি সুন্দর, কি স্নিগ্ধ, কি কোমল। যেন শিশির—ভেজা সদ্যফোটা পদ্মটি, সে পদ্মের পাঁপ্ড়িতে পাঁপ্ড়িতে হাসি, সে হাসির অন্তরালে অন্তরালে আমন্ত্রণ। এ কি সত্য সত্যই আমন্ত্রণ, না শুধু তাঁর নিজের প্রাণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিবিম্ব?
দিন কেটে গেল, সূর্য্যদেব পাটে বসলেন। নবৎখানায় পূরবী রাগিনী বেজে উঠল, কক্ষে কক্ষে লক্ষ দীপ জ্বলে উঠল, প্রেম পালঙ্ক থেকে নেমে বললে—“কুমার, তবে আজ আসি।”
রাজপুত্র উঠে দাঁড়ালেন, তারপর দুই বাহু তাঁর বুকের উপরে ন্যস্ত করে বললেন—“প্রেম! আমার আদেশে আজ পুরীর সিংহদ্বার রুদ্ধ, আমার আদেশ ব্যতীত তা খুলবে না।”
৮৪