অমনি নহবৎখানার রাগ—আলাপ থমকে গেল, পাখীদের কাকলীরব স্তব্ধ হ’য়ে গেল, কক্ষে কক্ষে দীপশিখা সব স্থির নিস্পন্দ হ’য়ে গেল। সমস্ত রাজপুরীটার প্রত্যেক বস্তুটি যেন কান খাড়া করে’ সজাগ হ’য়ে উঠল।
কক্ষতলে দু’জনে দাঁড়িয়ে রইলেন। কারো মুখে একটি কথা নেই। নিমেষের পর নিমেষ কেটে যেতে লাগল। পূর্ণিমার চাঁদ আকাশের অনেক পথ উঠে উর্ম্মিবালাদের গায়ে রূপোর বসন জড়িয়ে দিল। প্রেম বললে—“রাজকুমার, আমার মুক্তি দাও।”
রাজকুমার উচ্ছসিত কণ্ঠে বলে উঠলেন—“প্রেম, প্রেম, যদি আমার অন্তরের তীব্র দাহ বুঝতে পারতে, যদি জানতে কেমন করে আমার হৃদ্পিণ্ডের পরতে পরতে সূক্ষ শৃঙ্খল কেটে বসেছে, যদি জানতে”——রাজপুত্রের উচ্ছসিত কণ্ঠ ক্রমে ক্রমে উম্মাদের মত হ’য়ে উঠল, তাঁর চোখ দুটি জ্বল জ্বল করতে লাগল, রাজপুত্র দুই বাহু বিস্তার করে’ গদ গদ কণ্ঠে বললেন——“প্রেম, প্রেম, এসো আজ সমস্ত দূরত্ব সমস্ত ব্যবধান নির্ব্বাসিত হোক!”
প্রেম কেঁপে উঠল, পরমুহূঅর্ত্তে আপনাকে সংযত করে’ ছুটে পাশের দরজা দিয়ে সমুদ্রের দিক্কার ছাদের উপরে বেরিয়ে গেল।
রাজপুত্র ক্ষুধিত শার্দ্দলের মত তার পিছনে পিছনে ছুটে বেরুলেন। প্রেম ছাদের আলিসাতে উঠতর—না—উঠতে বাম বাহু দিয়ে তার কটি আকর্ষণ করে’ আপনার বক্ষের উপর টেনে নিলেন, রাজপুত্রের দক্ষিণ হস্তের নিষ্ঠুরতার নীচে তার হৃদয়পদ্ম পিষিত হ’য়ে
৮৫