বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প

গেল, আর ঠোঁট দুখানির উপর রাজপুত্রের ঠোঁট দু’টি যেন একটি শেষ মৃত্যু—আলিঙ্গনে কঠিন হ’য়ে বসে’ গেল।

 সে চুম্বনে প্রেমের শিরায় শিরায় একটা তড়িৎ প্রবাহ উন্মাদের মত ছুটে গেল, তার অঙ্গ—প্রত্যঙ্গ থর থর করে কেঁপে উঠল, সে কম্পনে তার নীবিবন্ধের গ্রন্থি শিথিল হ’য়ে গেল, ঘাঘ্‌রা খস্ খস্ করে উঠল, তারপর সর সর করে’ তা প্রেমের কটিচ্যুত হয়ে খসে পড়ল।

 প্রেমের কণ্ঠ থেকে একটা নিদারুণ “ও” শব্দ রাজপুত্রকে যেন মুহূর্ত্তের জন্যে চেতনা ফিরে দিল, প্রেম দু’হাতে চরম শক্তি সংগ্রহ কর’ রাজপুত্রকে ঠেলে দিলে, তারপর দু’হাতে চোক মুখ ঢেকে শির অবনত করে’ দাঁড়িয়ে রইল।

 রাজপুত্র তখন দেখলেন তাঁর সামনে নগ্ন নারী মূর্ত্তিটিকে। দেখতে দেখতে, দেখতে দেখতে তাঁর সমস্ত দেহ স্থির নিশ্চল নিস্পন্দ হ’য়ে গেল, তাঁর চোখ দুটি ধীরে ধীরে, ধীরে ধীরে পাথরের মত কঠিন হ’য়ে উঠল।

 রাজপুত্র দেখলেন সেই নগ্ন মূর্ত্তিকে। দেখলেন মাথা থেকে কটি পর্য্যন্ত পরিপুষ্ট সুন্দর এক বালিকা মূর্ত্তি, আর কটি থেকে নেমেছে একটি নিটোল নিরেট শঙ্খাবৃত মৎসপুচ্ছ।

 প্রেম ধীরে ধীরে মাথা তুলল। তারপর বিশ্বের বেদনার কণ্ঠ নিয়ে বললে—“রাজকুমার, আমি অর্দ্ধেক নারী অর্দ্ধেক মাছ, অর্দ্ধেক মানুষ অর্দ্ধেক পশু। আমার যে অংশ পশু সে অংশকে আমি অতি যত্নে তোমার কাছ থেকে গোপন করে’ রেখেছিলেম, সেই পশুকে

৮৬