বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটী আষাঢ়ে গল্প।

আজ তুমি অনাবৃত করলে, আর আমার সাধ্য নেই তোমার জীবনে স্বর্গের পরশ ব’য়ে আনতে, আজ এইখানে আমাদের চির বিদায়।”

 রাজপুত্র স্তব্ধ হ’য়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। মৎস্যনারী ধীরে ধীরে আলিশার উপর উঠে আপনাকে নীচ সাগরে ছেড়ে দিল। মুহূর্ত্তে চাঁদের কিরণে মৎস্যপুচ্ছের আঁশগুলো চিক্‌মিকিয়ে উঠল, তারপর ঝুপ করে’ একটা শব্দ হল, মুষ্টিখানেক হীরকচূর্ণ চারিদিকে ছড়িয়ে গেল, এক নিমেষ তরে জলবুদবুদেরা পুঞ্জ বাঁধল, তারপর সাগরবুকের সেই চিরন্তনের গান—

দুল্‌বি ওরে দুল্‌বি যদি আমার সুনীল দোলাতে।—

 রাজপুত্র কাঁদতে কাঁদতে ছাদ থেকে ভিতরে ফিরলেন। ভিতরে এক পা ফেলতেই রাজপুত্র থম্‌কে দাঁড়ালেন। কোথায়, কোথায়? সে কক্ষে কক্ষে দীপের মালা, সে পিঞ্জরে পিঞ্জরে পাখী, দাঁড়ে দাঁড়ে টিয়ের দল! চারিদিকে নিস্তব্ধ নিঝুম, চারিদিকে আঁধার। রাজপুত্র ছুটে নীচে নামলেন, কোথায় সে দাস দাসী শাস্ত্রী প্রহরী দৌবারিক প্রতিহারী সব শূন্য, কোথায়ও একটি জনপ্রাণী নেই, রাজপুত্র গিয়ে দেখেন হাতীশালে একটি হাতী নেই একজন মাহুত নেই, ঘোড়াশালে একটি ঘোড়া নেই একজন শোয়ার নেই, নহবতে রসুনচৌকি নেই। রাজপুত্র রাজপ্রাসাদে ফিরে এলেন চারিদিক শূন্য নিঝুম, নিঝুম চাঁদের আলো থামের ফাঁকে ফাঁকে আড় হয়ে এসে মেঝেয় পড়ে চারিদিক আরও নিবিড় আরও গভীর করে’ তুলেছে। রাজপুত্র হাজার মণ পাথর পায়ে নিয়ে যেন ধীরে ধীরে অতি কষ্টে সিঁড়ি

৮৭