বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক।

জোড়করে আকাশের পানে চেয়ে গদগদভাষে শ্রীমন্ত বল্‌ল—“দেখো ঠাকুর! আমার খোকাকে যেন বাঁচিয়ে রেখ—দেখো যেন আকাশের চাঁদ হাতে দিয়ে আবার তা কেড়ে নিয়ো না”—শ্রীমন্তের মুখে আর কথা সরল না—তার কণ্ঠ রুদ্ধ হ’য়ে এল—অন্তরের ভাব, ভাষা খুঁজে পেলে না!

 যথাসময়ে অন্নপ্রাশনের সঙ্গে শিশুর নামকরণ হ’য়ে গেল। দেবতার দান বলে’ তার নাম রাখা হ’ল প্রসাদ’। যেদিন শিশু প্রথম আধ আধ কথায় মা ও বাবা ডাক্‌তে শিখল, সেদিন দক্ষিণা ও শ্রীমন্তের বুকের ভিতরটা আশায় আনন্দে কেঁপে উঠল—এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের চোখের সামনে একটা নতুন জগৎ খুলে গেল। যে জগতে পিতৃ—মাতৃ হৃদয়ে এত স্নেহ এত ভালবাস—সে—জগতের ত কঠোর হবার অবসর নেই। যে সংসারে শিশু রয়েছে—তার আধ আধ কথা রয়েছে—কালো চোখের হাসিমাখা দৃষ্টি রয়েছে—সে সংসারের ত নির্ম্মম হবার সাহস নেই। শ্রীমন্তের মরুভূমির মতো সংসার এক মুহূর্ত্তে যেন মন্দাকিণী প্রবাহে দ্রুমদলশোভিত হ’য়ে গেল। আর সে ক্লান্তি নেই, দুঃখ নেই, দৈন্য নেই——আর সে ব্যর্থতা নেই। শিশুর আনন্দময় স্পর্শে সমস্তই ধন্য ও সার্থক হ’য়ে উঠল।

 প্রতিদিনের কাজগুলো যা এতদিন শ্রীমন্ত ও দক্ষিণার কাঁধে ভূতের বোঝার মতো চেপে তাদের জীবনকে এখানে সেখানে নির্ম্মম ভাবে টেনে নিয়ে বেড়াত, সে ভার শুধু একটী মাত্র শিশুর আবির্ভাবে একেবারে লঘু হ’য়ে গেল। শ্রীমন্ত যখন জাল কাঁধে নিয়ে মাছ মার্‌তে যায় তখন তার হৃদয়টা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই আজকাল নৃত্য

৯০