বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক

পাঁপড়ির মতো নিমীলিত। আর ঠোঁট্ দুখানিতে একটি মৃদু—অতি মৃদু হাসির রেখা। দক্ষিণা কি প্রসাদকে আর কোন দিন নিদ্রিত অবস্থায় দেখে নি?—দেখেছে; কিন্তু সে প্রসাদে আর এ প্রসাদে যেন আকাশ পাতাল তফাৎ। আর কি কোন দিন সে প্রসাদকে হাস্‌তে দেখে নি?—দেখেছে; কিন্তু সে হাসিতে আজকার এই নিদ্রিত শিশুর মৃদু হাসিটুকুতে যে কি প্রভেদ তা দক্ষিণা বলতে পারে না——কিন্তু সে—হাসি আর এ—হাসি এক নয়। এ কি দক্ষিণার পুত্র—না কোন দেবশিশু! এ কি এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর ক্ষুদ্র পিতা মাতার স্নেহাবদ্ধ সন্তান——না অনন্ত আকাশের কোন জীব! এ কি মর্ত্তের মানুষ—না স্বর্গের দেবতা! দক্ষিণার কেমন ভয় করতে লাগ্‌ল। তাড়াতাড়ি ডাক্‌ল—“প্রসাদ, প্রসাদ!”

 দক্ষিণার ডাকে যখন প্রসাদের ঘুম ভেঙে গেল তখন সে চারিদিকে চেয়ে প্রথম কিছু বুঝ্তে‌ পারল না, তারপর হঠাৎ তার মাকে দেখ্তে পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে’ বল্‌ল—“জানিস্ মা ভারি একটা মজার স্বপ্ন দেখ্ছিলাম।

 দক্ষিণা শিশুকে বক্ষে চেপে তার দুই গালে হাত বুলিয়ে বুঝ্‌ল এ তারই প্রসাদ বটে—জিজ্ঞেস্ কর্‌ল—“কি স্বপ্ন বাবা?”

 “”ভারি মজার স্বপ্ন মা! সে কি যেন কেমন—একদিন যেন আমি খেলছিলাম—সেখানে সবাই আছে মা নরু অনঙ্গ বৈকোণ্ঠো শশী তারক—সবাই। হঠাৎ দেখি কেউ নেই! একলা আমি খালি দাঁড়িয়ে আছি—আর আমার সাম্‌নে মা খালি নীল—আর নীল—আর নীল! আর সেখানে থেকে কে যেন খালি ডাক্‌ছে—“প্রসাদ প্রসাদ,”

৯২