বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক।

আমি উত্তর দিতে যাই আর পারি না—হাঁট্‌তে যাই হাঁট্‌তে পারি না! আচ্ছা স্বপ্নে এ রকম হয় কেন মা? হাঁট্‌তে গেলে হাঁট্‌তে পারি না—কথা বল্‌তে পারি না?”

 “কি জানি বাবা কেমন করে বল্‌ব স্বপ্নে কেন ওরকম হয়।”

 “তারপর আরও কত যেন কি——সব আমার মনে নেই। কত যেন সুন্দর সুন্দর দেশ——কত ঘর বাড়ী——ফুল ফল ——কত যেন কি। সে এমন সুন্দর—সব বুঝি পরীদের দেশ —পরীদের দেশ কোথায় মা?”

 “কি জানি বাবা তাদের দেশ কোথায় তা ত কেউ জানে না। তারা থাকে আকাশে——আকাশে আকাশেই ঘুরে বেড়ায়——তাদের দেশ কোথায় তা ত কেউ জানে না।”

 প্রসাদ সন্দেহাকুল চিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে দেখল। শিশুর চোখে পড়্ল শুধুই আকাশ—অনন্ত শূন্য——আর কিছুই না। একটু ম্রিয়মান হ’ল। হায় পরীদের দেশ কোথায় তা কেউই জানে না!

 সে—দিন রাত্রিতে ভীষণ তুফান উঠ্ল। কালো কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেল—থেকে থেকে বিদ্যুৎ তাদের গায়ে দাঁত বসিয়ে দিতে লাগ্‌ল। দিগন্তের পার থেকে সাঁ সাঁ করে’ বাতাস ছুটল—সেই বাতাসের নাড়া খেয়ে লক্ষ ঢেউ যেন লক্ষ নিদ্রিত অজগরের মতো জেগে উঠে, তাদের লক্ষ ক্রুদ্ধ ফণা তুলে বেলাভূমে আছ্‌ড়ে আছ্‌ড়ে পড়তে লাগ্‌ল। সঙ্গে সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি! অর্দ্ধপ্রহর রাত থাক্‌তে জল ঝড় থেমে গিয়ে, প্রকৃতি শান্তমূর্ত্তি ধারণ কর্‌ল। দক্ষিণার যখন

৯৩