ঘুম ভাঙ্ল তখন পূর্ব্বদিকে ক্ষীণ ঊষার আলো দেখা দিয়েছে—আঁধার তখনো গাছে গাছে, তাদের ডালপালার পাশে পাশে, ঘরবাড়ীর কোণে কোণে আশ্রয় খুঁজে আরোও কিছুকাল থাকবার প্রয়াস পাচ্ছিল। দক্ষিণা উঠে ছড়া দিয়ে উঠান ঝাঁট দিল। তখন চারিদিক বেশ ফরসা হয়ে এসেছে। দক্ষিণা গিয়ে প্রসাদকে ডেকে তুল্ল—বল্ল—“কাল রাত্রে ঝড় হ’য়ে গিয়েছে—চল্, ঝিনুক কুড়তে যাবি নে?” প্রতি ঝড়ের শেষে সমুদ্রের প্রচণ্ড তরঙ্গাঘাতে যে—সব মরা ঝিনুক ইত্যাদি বেলা—ভূমে পড়ে থাক্ত দক্ষিণা তা কুড়িয়ে বেশ দু’ পয়সা উপায় করত। কখনও কখনও বা দু’ একটা বড় শঙ্খ বা কড়িও মিলে যেত। তা অবস্থাপন্ন গৃহস্থেরা বেশ দাম দিয়ে কিনে নিত। দক্ষিণা তাড়াতাড়ি প্রসাদকে কাপড় পরিয়ে দিল। কুটীরের দরজাটি টেনে দিয়ে মাতা এবং পুত্রে বের হ’য়ে পড়ল।
ছোট বড় নানা রঙের নানান্ আকৃতির ঝিনুকে যখন দক্ষিণার ঝাঁকাটী পূর্ণ হ’য়ে উঠ্ল সমুদ্রগর্ভস্থিত সূর্য্যের ক্রুদ্ধ রশ্মিগুলো পূর্ববদিগন্তে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত মেঘমালা তীরের মতো ভেদ করে’, উদ্ধে নীলিমায় আপনাদের ছড়িয়ে দিয়েচে। ঝিনুক কুড়োতে কুড়োতে তারা সমুদ্রের ধারে ধারে অনেক দূর গিয়ে পড়েছিল। ফিরবার পথও সেই সমুদ্রের ধারে ধারে। দক্ষিণা বাম কাঁকালে ঝিনুকপূর্ণ ঝাঁকাটি বহন করে’, দক্ষিণ হস্তে প্রসাদের ক্ষুদ্র হস্তটী ধারণ করে’ ছেলের সঙ্গে গল্প কর্তে কর্তে বাড়ী ফিরে চল্ল।
মাতা পুত্রে কথোপকথন করতে কর্তে চলছিল আর শিশুর চঞ্চল চোখ দুটী এদিক সেদিক ফিরছিল। একবার প্রসাদ সমুদ্রের
৯৪