দিকে চেয়ে দেখে, তারপর বলে উঠল—“দেখ্ দেখ্ মা কেমন একখানা জাহাজ কতদূর দিয়ে ছুটে চলেছে“—কিন্তু পরক্ষণেই তার উত্তেজিত অঙ্গুলি দাঁত দিয়ে কাম্ড়ে ধরে’ একেবারে দাঁড়িয়ে গেল—শিশু যেন কি স্মরণ করবার চেষ্টা করতে লাগ্ল। সহসা আনন্দে উৎফুল্ল হ’য়ে বলে উঠল—“মা জানিস!”
দক্ষিণাও প্রসাদের সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল—বল্ল “কি বাবা?”
“সেই যে সে—দিনকার স্বপ্ন।”
“হাঁ বাবা”
“খালি নীল—আর নীল—আর নীল!”
“হাঁ বাবা”
শিশু তার ক্ষুদ্র হস্তের ক্ষুদ্র অঙ্গুলি সমুদ্রের দিকে প্রসার করে’ বল্ল—“সে যেন ঐ রকম মা।”
“ছি ছি বাবা স্বপ্ন সব মিথ্যে। স্বপ্নের কথা মনে করে’ রাখ্তে নেই।”
দক্ষিণা প্রসাদকে টেনে নিয়ে গৃহ-অভিমুখে অগ্রসর হ’ল। শিশুও অন্যমনস্ক ভাবে মায়ের সঙ্গে সঙ্গে চল্ল। সে মনে ভাবলে হায়! স্বপ্ন সব মিথ্যে! এমন মজার জিনিষগুলো মিথ্যে হয় কেন? এই ভেবে সে অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হ’ল।
সে দিন বেলা এগারটা বেজে গিয়েছে। গ্রামের উপকণ্ঠে যে মস্ত ছাতিম গাছটা ছাতার মতো ডাল বিস্তার করে’ পাতা বিছিয়ে দিব্যি ছায়া করে’ দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে তখনকার মতো খেলা
৯৫