পাতা:ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপক্রমণিকা

 আরবী শব্দ “ইসলাম”-এর অর্থ আত্মসমর্পণ এবং মুসলমান” শব্দের অর্থ হল ঈশ্বরের আজ্ঞাধীন ব্যক্তি। মুসলমানদের মতে ইসলামই হল সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও আদি ধর্ম এবং আল্লা যেদিন মানুষ সৃষ্টি করেছেন সেদিনই এই ধর্মমত পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছে। এই পৃথিবীতে দৃশ্য অদৃশ্য যা কিছু আছে সবই আল্লা সৃষ্টি করেছেন। কাজেই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা এবং তার নিজের সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মানুষের উচিত সবসময় আল্লার প্রশংসা করা, আল্লার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। যেহেতু ইসলামের সরল পথ বা সিরাতুল মুস্তাকিম্ এই একই কথা বলে তাই ইসলাম হল মানবজাতির স্বাভাবিক ধর্ম। মহান আল্লাপাক, যিনি বারবুস সমাঅতে আল আরদ বা দুলোক ভূলোকের প্রভু যিনি জীবন-মৃত্যুর মালিক, মহান আরস (স্বর্গীয় সিংহাসন-এর অধিপতি এবং বিচারের দিনের মহাপরিচালক, যিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, যা কিছু ভাল-মন্দ তিনিই সংঘটিত করেন, তিনি এক এবং অবিনশ্বর। “লা ইলাহা ইল্লাল্লা’, সেই আন্না ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই এবং তিনি “লা শরীকা” বা তার কোন শরীক ভাগীদার নেই: সকল প্রশংসা তারই প্রাপ্য এবং তিনি সকল কিছুর উপরে শক্তিমান।

 কিন্তু মানুষ বার বার তার সৃজনকর্তা ও প্রতিপালক আল্লার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আল্লাকে অবিশ্বাস করেছে এবং তার পরাক্রমকে অবিশ্বাস করেছে। অন্য দেবদেবীকে আল্লার সমকক্ষ দাঁড় করিয়ে আল্লার অংশী সৃষ্টি করেছে। সব সময় তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার যে সরল পথ আল্লা নির্দেশ করেছেন, মানুষ অহঙ্কর ও দম্ভের বশে অথবা শয়তানের দ্বারা চালিত হয়ে সে নির্দেশ অমান্য করেছে। কিন্তু রহমানির রহিম বা পরম দয়ালু ও দয়াময় আপ্না মানুষকে কুপথ থেকে সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য বার বার রসুল বা বার্তাবাহক পাঠিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তিনি আট হাজার রসুল পাঠিয়েছেন। যার মধ্যে চার হাজার বনি ইস্রাইল বা ইহুদী জাতিভুক্ত এবং বাকী চার হাজার অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক। তারা মানুষের মধ্যে মহান আল্লার বাণী প্রচার করেছেন, মানুষকে আল্লার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে বলেছেন, আল্লার পরাক্রমকে ভয় করতে বলেছেন এবং আল্লার শরিক সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। যে সমস্ত জাতি তাদের রসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আল্লাকেই একমাত্র উপাস্য করে রসুলের পথ অনুসরণ করেছে, আল্লা তাদের অবিশ্বাস্যভাবে পুরস্কৃতকরেছেন। কিন্তু যে সমস্ত জাতি অহঙ্কারের বশে, কিংবা শয়তানের প্রভাবে