পাতা:ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১৩
 

হয়ে পড়ল। এই সমস্ত দেবদেবীর যে ভাল বা মন্দ, কিছুই করার ক্ষমতা নেই তা বুঝতেপারল না। তাই আল্লা মানুষকে সুপথ দেখাবার জন্য সর্বশেষ রসুল হজরৎ মহম্মদকে পৃথিবীতে পাঠালেন। এইভাবে আল্লা নবী মহম্মদের মাধ্যমে মানুষকে শেষবারের মত সাবধান ও সতর্ক করে দিলেন। তবে আল্লাতায়লা কেন যে আর কোন রসুল পাঠাবেন না বলে স্থির করলেন ইসলামী গ্রন্থেতার কোন কারণ দেখানো হয়নি। সম্ভবত মানুষ্যজাতিকে আল্লার যা বলার ছিল তা সবই নবী মহম্মদের মাধ্যমে বলা হয়ে গেছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যতে আর কোন নবী বা রসুল পাঠাবার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে যে, মহম্মদের মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পরে মুসাইলিমা কায্যাব নামে একজন আরববাসী নিজেকে রসুল বলে দাবি করে এবং তাকে হত্যা করা হয় (বুখারী-৩৭৬৭)।

 যাই হোক, আল্লা আর রসুল পাঠিয়ে মানুষকে সতর্ক করবেন না ঠিকই, তবে তার বদলে তিনি যা করবেন তা এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আল্লা কেয়াম বা শেষ বিচার করবেন। সেই কেয়ামতের দিন আল্লা সবাইকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করবেন এবং তাদের পার্থিব জীবনের সমস্ত পাপ-পুণ্যের চুলচেরা বিচার করবেন। সেই কেয়ামতের দিন পৃথিবী ধ্বংস হবে। ঐ দিন বিচারে যারা পুণ্যাত্মা বিবেচিত হবে তারা অনন্ত স্বর্গে চলে যাবে আর পাপীরা অনন্ত নরকে নিক্ষিপ্ত হবে। কাজেই যারা বর্তমানে রসুল মহম্মদের পথ অনুসরণ করে একেশ্বর আম্লার ভজনা করবে, আল্লার অংশী হিসাবে যে সমস্ত দেবদেবীকে খাড়া করেছেতাদের পরিত্যাগ করবে এবং নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজের দ্বারা পুণ্য সঞ্চয় করবে, আল্লা তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করবেন। সম্মানের সঙ্গে জান্নাৎ বা স্বর্গে নিয়ে যাবেন এবং সেখানে অনন্তকাল থাকার ব্যবস্থা করবেন। আর যারা তা না করবে, সেই সব কাফের বা অবাধ্যদের তিনি অনন্ত নরকের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।

 কেয়ামতের আগের দিনও যদি কেউ তার কৃত পাপের জন্য তওবা বা অনুতাপ করে, মহম্মদের সত্যধর্ম গ্রহণ করে এবং পাপ ক্ষমার জন্য আল্লার কাছে শফাঅৎ বা আর্জি পেশ করে তবে আল্লা তা কবুল বা গ্রহণ করবেন। কিন্তু কেয়ামতের দিন কোন আবেদন-নিবেদনে আর ফল হবে না। অবশ্য আন্না মানুষের প্রতি পরম করুণাময় বলেই কেয়ামতের আগের দিন পর্যন্ত তাদের তওবা ও শফাৎ করার সুযোগ দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে কেয়ামতের চল্লিশ বছর আগেই শয়তানের আর্জি পেশ করার সময়সীমা পার হয়ে যাবে, কারণ শয়তান আল্লার প্রত্যক্ষ শত্রু।