পাতা:ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা.pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
ইসলামে নারীর স্থান ও পর্দাপ্রথা
১৫৩
 

গ্রহণের মােগ্যা পাত্রী।....অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েদের মন ও মস্তিষ্ক থাকে শিক্ষার সম্পূর্ণ উপযােগী। নারী সমাজকে বিবি আয়েশার মারফৎ শরিয়তের বিধিবিধান শিক্ষা দেবার জন্যই হজরৎ মােহাম্মদ (দঃ) অল্প বয়স্কা আয়েশাকে পত্নীরূপে গ্রহণ করেছিলেন” (পৃঃ ৬৪)।

 জনাব আবদুর রহমান আরও মনে করেন যে, নবীর কাছ থেকে এই সমস্ত মূল্যবান শিক্ষা লাভ করেছিলেন বলেই বিবি আয়েশার পক্ষে ১২১০ টি হাদিস বর্ণনা করা সম্ভব হয়েছিল এবং লিখছেন, “ইসলামের ইতিহাস পাঠ করলে জানা যায় যে, আলেমা (বিদুষী) আয়েশা বার শ দশটি হাদিশ রওয়ায়েত বা বর্ণনা করেছিলেন। এত বিপুল সংখ্যক হাদিস নবীর অন্য কোন পবিত্রা পত্নীর কাছ থেকে পাওয়া যায় নি” (ঐ, পৃঃ ৬৪)। পাঠকের কৌতুহল থাকতে পারে যে, যৌন নাজুক বিষয়ে কি কি মূল্যবান হাদিস মহামান্যা আয়েশা রেখে গেছেন, তাই তার কয়েকটা নীচে দেওয়া গেল।

 কোন ব্যক্তি একদিন বিবি আয়েশাকে জিজ্ঞাসা করেন কোন কোন ক্ষেত্রে স্নান করা আবশ্যক (ফরজ)?” তখন বিবি আয়েষা বললেন, “যখন কোন ব্যক্তি কোন স্ত্রীলােকের উপর বসে এবং তাদের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে তখনই স্নান করা আবশ্যিক”(মুসলীম-৬৮৪)। বিবি আয়েশা বর্ণনা করছেন যে, একদিন এক ব্যক্তি নবীকে জিজ্ঞাসা করল যে, বীর্যপাত না হওয়া সত্ত্বেও কি যৌন মিলনের পর মান করা বাধ্যতামুলক? নবী তখন আঙুল তুলে বিষি আয়েশাকে দেখিয়ে বললেন, “সে আর আমি প্রায়ই এ রকম করি এবং তারপর স্নান। করি।”(মুসলীম-৬৮৫)। আয়েশা বর্ণনা করছেন, “আমি এবং আল্লার রসুল যৌন ক্রিয়ার পর একই পাত্র থেকে জল নিয়ে স্নান করতাম, একবার আল্লার রসুল হাত ঢুকিয়ে জল তুলতেন, এক বার আমি হাত ঢুকিয়ে জল তুলতাম” (মুসলীম-৬২৯)। আশাকরা যায় আর বেশী উদাহরণের প্রয়ােজন হবে না।

 উপরিউক্ত ব্যাপারে আবদুর রহমান সাহেব তার গ্রন্থে আরও লিখছেন, ‘পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব বছর বয়সে একটি বালিকাকে বিবাহ করার মধ্যে কামের কুৎসিৎ প্রেরণা থাকতে পারে না, যৌন বিজ্ঞানের পাঠক পাঠিকারা তা অস্বীকার করবে বলেই আমার বিশ্বাস। হজরৎ আয়েশা-মােহাম্মদ (দঃ) এর সাদী মােবারক সম্বন্ধে যারা অপ্রীতিকর মন্তব্য করেন, তাদের হৃদয় মন যে পবিত্র নয় এবং তারা যে 'ঈী ইসলাম কে সুনজরে দেখেন না সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই” (ঐ, পৃ:৬৫)। উপরিউক্ত কথাবার্তার মধ্যে আবেগের বশে আবদুর রহমান সাহেব নিজের অজ্ঞাতসারে ইসলাম বিরােধী কথা বলে ফেলেছেন। কাম কুৎসিৎ, ইসলাম এ কথা বলে না, উপরন্তু কামের চরিতার্থতাই ইসলামের নির্দেশ এবং প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।